ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, ২০ মাওবাদী নিহত

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৫, ১৯:৩৯

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২০ মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মাওবাদী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর এই অভিযানকে বড় সাফল্য বলে দাবি করেছেন। খবর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) রাতে রাজ্যের গরিয়াবন্দ জেলায় বন্দুকযুদ্ধে তারা নিহত হয়েছেন বলে ছত্তিশগড় পুলিশ জানিয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে চালাপতি নামে পরিচিত প্রবীণ মাওবাদী নেতা জয়রাম রেড্ডিও নিহত হয়েছেন। এই মাও নেতা ছত্তিশগড়-ওড়িশা সীমান্তের এক জঙ্গলে গুলিতে নিহত হন। মাওবাদী নেতা জয়রাম রেড্ডির মাথার দাম এক কোটি রুপি ঘোষণা করেছিল ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ওড়িশার নুয়াপাদা জেলার সীমান্ত থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে ছত্তিশগড়ের কুলারিঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মাওবাদীদের উপস্থিতি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করা হয়।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে স্বয়ংক্রিয় লোডিং রাইফেল-সহ বিপুল পরিামণ গোলাবারুদ, আইইডি ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গরিয়াবন্দ জেলায় মাওবাদী-বিরোধী এই অভিযান পরিচালনা করেছেন জেলা রিজার্ভ বাহিনী (ডিআরজি) ও কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী সিআরপিএফ ও ওড়িশার স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের (এসওজি) সদস্যরা।

উল্লেখ্য, কয়েক দশক ধরে চলা মাওবাদীদের বিদ্রোহে দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। মাওবাদী বিদ্রোহীরা ভারতের খনিজ-সমৃদ্ধ মধ্যাঞ্চলীয় ওই রাজ্যের প্রান্তিক আদিবাসীদের অধিকারের জন্য বছরের পর বছর ধরে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

চীনা বিপ্লবী নেতা মাও সেতুংয়ের কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৬৭ সালে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেন ভারতের মাওবাদী বিদ্রোহীরা। আদিবাসী অধিকার বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পক্ষে লড়াইয়ের দাবি করা মাওবাদীরা নকশাল নামেও পরিচিত।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানে ছত্তিশগড়ে অন্তত ২৮৭ বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। রাজ্যটিতে দেশটির সরকারি বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাত দমনের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।

ইত্তেফাক/এমএএস