মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ৯২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১৯:১১

মালয়েশিয়ায় আদম ব্যবসা ও মানব পাচারের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন মো. সোহাগ নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী। সোহাগ দাবি করেছেন, ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রতারিত হন এবং তাদের মাধ্যমে ৫৬ জন লোকের পাসপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে ৯২ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হন। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে তদন্তের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগী সোহাগের পক্ষে এ অভিযোগ করেন তার ভগ্নীপতি মো. মাসুদ শেখ।

মো. সোহাগ বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী হিসেবে বসবাস করছেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সোহাগের সাথে ১নং বিবাদী নবী রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, নবী রহমান নামে একজন তাকে একটি ব্যবসায়িক প্রস্তাব দেন, যা ছিল আদম ব্যবসার একটি অবৈধ কাজ। তিনি সোহাগকে প্রলোভন দেখিয়ে ৫৬ জন লোকের পাসপোর্ট তৈরি করতে বলেন। সোহাগ, যিনি আগে কখনো এ ধরনের কাজে জড়িত হননি, তিনি ১নং বিবাদীর প্রলোভনে পড়ে রাজি হয়ে যান।

সোহাগ অভিযোগ করেছেন, ২ ও ৩ নং বিবাদী, যারা নবী রহমানের আত্মীয়, বাড্ডায় একটি ভুয়া মেডিকেল অফিস চালু করে এবং সেখানে নকল সিল ব্যবহার করে কাগজপত্র তৈরি করেন। এই অফিসের মাধ্যমে সোহাগকে চাপ দেওয়া হয় এবং প্রভাবিত করা হয় যাতে তিনি ৫৬টি পাসপোর্ট তৈরি করতে সক্ষম হন।

চতুর্থ বিবাদী আব্দুর রহিম, যিনি ওই ভুয়া মেডিকেল অফিসের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন, তিনি এসব কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তারা একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে সোহাগের কাছ থেকে মোট ৯২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সোহাগের দাবি, তিনি নিজের মালয়েশিয়ায় থাকা দোকান বিক্রি করে এবং বাংলাদেশে তার আত্মীয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছেন, যা ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।

এদিকে, সোহাগের অভিযোগের পর, ভিডিও ক্লিপ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ২ নং বিবাদীকে বিভিন্ন সময় পাসপোর্টের জন্য নগদ টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। সোহাগের দাবি, মোট ৯২ লাখ টাকা তারা বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেল এবং নগদ লেনদেনের মাধ্যমে নিয়েছে। 

বিবাদীরা এখন তাকে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করে নানা অজুহাত দেখাচ্ছে এবং সোহাগকে হুমকি দিচ্ছে যে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে তারা তার ক্ষতি করবে। এ ব্যাপারে সোহাগ ও তার পরিবার যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছেন এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার জন্য আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে সহায়তা চান।

এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি