চেয়ার ধরে রেখে ক্রিকেটে বিকেন্দ্রীকরণ চান ঢাকার ক্লাব সংগঠকরা

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১৬:১৯

ফারুক আহমেদ বিসিবি সভাপতি হওয়ার পরে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন। সেজন্য বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্থাটির গঠনতন্ত্রেও হাত দিয়েছিলেন। চেয়েছিলেন দেশের ক্রিকেট ঢাকা কেন্দ্রিক না করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে। সেজন্য গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ক পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করেছিলন। কিন্তু বিপত্তি বাধে এই কমিটির সুপারিশ আসার পরে। 

বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে প্রধান করে গঠন করা এই কমিটি রাজধানী ঢাকার পরিচালকদের সংখ্যা কমানোর সুপারিশ করেছিল। তাতে ক্ষেপে ওঠেন ঢাকার ক্রিকেট সংগঠকরা। সব ধরনের ম্যাচ বয়কটেরও ডাক দেন তারা। উপায় না পেয়ে গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ বাতিল করে বিসিবি। এরপরে মাঠের খেলায় ফেরার বার্তা দিয়েছেন ঢাকার সংগঠকরা। 

গতকাল বিসিবিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে সব ধরনের ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার কথা জানান ঢাকার সংগঠকরা। সে সময়ে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপোলিসের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী, মোহেমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক মাসুদুজ্জামান, ক্রীড়া সংগঠক রফিকুল ইসলাম বাবুসহ আরও অনেকে। সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'আমরা সব ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট নিয়ে। মধ্যে আমরা একটু থেমে গিয়েছিলাম। এখন মাঠে গড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে এই টুর্নামেন্ট।' 

বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ক কমিটি সুপারিশ করেছিল, ঢাকার পরিচালকদের সংখ্যা কমিয়ে ঢাকার বাইরের পরিচালকদের সংখ্যা বাড়ানোর। তাতে ক্রিকেটে বিকেন্দ্রীকরণ আসবে। কিন্তু ঢাকার সংগঠকরা মনে করেন, এই সুপারিশ ছিল আত্মঘাতী। এতে ক্রিকেটের উন্নয়নের থেকে ধ্বংস বেশি হতো। রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, 'আমরা মনে করি, ঢাকার ক্রিকেট মানে বাংলাদেশের ক্রিকেট। কারণ ঢাকার ক্রিকেট ক্লাবগুলোতে শুধু ঢাকার সংগঠকরা যুক্ত থাকেন না, এখানে বাংলাদেশের সকলেই আছেন। আর বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে থেকে শুরু করে প্রত্যেক খেলোয়াড় চায় তারা ঢাকায় কখন খেলবে। ঢাকা থেকেই কিন্তু সমস্ত ক্রিকেটাররা এখন পর্যন্ত উঠে এসেছে। এখানে শুধু ঢাকার ক্রিকেটাররা খেলেন না, বাংলাদেশের সকল জেলার ক্রিকেটার খেলেন। সেজন্য আমরা চাই ঢাকার পরিচালক ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৬ জন করা হোক, বাকিটা বিসিবি কী করবে তারা জানে।' 

বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে ঢাকার এই সংগঠক বলেন, 'আমাদের একটি স্লোগান ছিল, ক্রিকেটকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া। মরহুম আরাফত রহমান কোকোর এই স্লোগানের আলোকে বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ট্যালেন্ট হান্টিং প্রকল্পগুলো চালু করেছিলেন। এছাড়া অঞ্চলভিত্তিক যে কমিটিগুলো ছিল সেগুলো চালু করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমরা চাই, ঢাকার বাইরে যে ১০ জন পরিচালক থাকেন, পাশাপাশি যে কাউন্সিলররা থাকেন, তাদের প্রত্যেকের জেলায় ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রিকেট খেলা হোক। যেখানে খেলা হবে না, সেখানে কাউন্সিলর বাদ দেওয়া যেতে পারে। যারা ঢাকার বাইরে থেকে এসে বোর্ড পরিচালক হবেন, তাদের ওখানে যদি খেলা না হয়, তাহলে সবার আগে তাদের বাদ দেওয়া উচিত। তারা যদি নিজের জেলাতেই খেলা চালাতে না পারে তাহলে সেখানে আরো সংখ্যা বাড়ানো যুক্তিযুক্ত কি না, ভেবে দেখা দরকার।' 

রফিকুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে সুর মিলিয়ে মাসুদুজ্জামান বলেন, 'ঢাকার বাইরে যে ১০ জন পরিচালক থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক সংশ্লিষ্টতা থাকে। অনেকে ক্রিকেট জানে না, বোঝে না। অতীতে এমন ছিলেন অনেকে। যোগ্য লোক না পেলে বিকেন্দ্রীকরণ করবেন কীভাবে? আমি কাউকে ছোট করে বলছি না, ঢাকার সঙ্গে ঢাকার বাইরের পরিচালকদের তুলনা করলে দেখা যায়, অনেকের যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পরিচালক হয়ে যান। কিন্তু ঢাকায় সেটি হয় না।' 

এ দিকে এ বছর বিপিএলের সূচি এগিয়ে আসার কারণে প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াতে বিলম্ব হয়েছে। তাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগও (ডিপিএল) কিছুটা বিলম্বে শুরু হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মার্চের প্রথম দিন থেকে ডিপিএল মাঠে গড়াতে পারে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিসিডিএম চেয়ারম্যান। 

আর গেলবারের মতো এবারও ডিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ থাকছে না বলে তিনি জানিয়েছেন। এবারের টুর্নামেন্ট বয়কটের ডাক দিয়ে পুনরায় অংশগ্রহণের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, 'বিসিবি ইতিমধ্যে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে। সেজন্য বিসিবিকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। যে সমস্ত জায়গায় সংশোধনের প্রয়োজন সেগুলোতে আমাদের মতো রয়েছে। যেগুলো করার প্রয়োজন নেই সেখানে তারা হাত দিয়েছিলেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমার ধারণা এখন আর কেউ ভুল করবে না।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ