‘অভিশপ্ত নীলকুঠি’ ঘিরে আশার আলো

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:৪৮

মাদারগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক নীলকুঠি ধ্বংস প্রায়। এইধ্বংসস্তূপ জানান দিচ্ছে দুইশ বছর আগের ইতিহাসে শোষণের এক করুণ চিত্র। সেই সঙ্গে অযত্মে-অবহেলায় পড়ে থাকা ‘অভিশপ্ত নীলকুঠিতে’ হানা দিয়েছে দখলদার। এবার সংরক্ষণের জন্য বেহাত হওয়া সরকারি জমি উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে। 

সোমবার (২৭ জানুয়ারি)  উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছায়েদা খানম লিজা কুঠি এলাকায় বেহাত হওয়া কাতলামারী মৌজার ২১ শতাংশ জমি উদ্ধার করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। 

তাছাড়া বেহাত হওয়া কয়েক একর জমি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মূলত উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামে ইংরেজ বণিকরা ১৮৬১ সালে এই নীলকুঠি স্থাপন করে। যমুনা নদীর মোহনায় অবস্থিত এই নীলকুঠি এলাকার প্রসিদ্ধ স্থান। এ কারণে কুঠিতে সহজেই জাহাজ ভিড়তো। ভারত-আসামের মধ্যে নৌপথ চালু থাকায় বণিকরা মাদারগঞ্জে নীল চাষ করে লাভবান হতেন।

এখানকার সহজ-সরল কৃষকদের বুঝিয়ে ইংরেজ বণিকরা নীলচাষ করাতো। নীলকররা কৃষকদের নামমাত্র ভাগ দিতেন, বাকি সব চলে যেত তাদের কুঠিতে। এতে কৃষকের চরম ক্ষতি হলেও কেউ কোনো প্রতিবাদ করলে ভাগ্যে নেমে আসতো নির্মম নির্যাতন। তবে ইংরেজ শাসনের বিলুপ্তির পর অভিশপ্ত ও ঐতিহাসিক নীলকুঠি বেহাত হয়ে যায়।

এ নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসন এই স্থাপনা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছায়েদা খানম জানান, কাতলামারী মৌজার ২১ শতাংশ জমি উদ্ধার করে সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি উদ্ধার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম