আওয়ামী লীগের আমলে দেশছাড়া, ফিরেই হত্যা মামলার আসামি 

প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি ভুক্তভোগী রাসেলের

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১৪:১১

বিগত আওয়ামী লীগের সময় হয়েছিলেন দেশছাড়া। গভীর রাতে বাসা থেকে স্ত্রী, পুত্রকে পুলিশ বাসা থেকে নিয়ে যায় শুধু তাই নয়, আক্রোশের বশে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ধরে নিয়ে নানা ধরনের নির্যাতন করে পুলিশ। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার নামে দেওয়া হয়েছে মামলা। 

প্রয়াত শিল্পপতি এম এ হাশেমের ছেলে, টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শিল্পপতি শওকত আজিজ রাসেলের নামে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি এ মামলাটি দায়ের করে জনৈক মো. সাকিব হাসান। প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং জননিরাপত্তা সচিব বরাবর এক চিঠিতে শওকত আজিজ রাসেল মামলাটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

চিঠিতে রাসেল বলেন, বিগত ৩০ বছর যাবৎ তিনি সততা, দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। ২০০১ সালে তার পিতা মরহুম এম এ হাশেম বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার কারণে তিনি ফ্যাসিবাদ সরকারের প্রতিহিংসা, নিপীড়ন, নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হন। ২০১১ সালে পারটেক্স মালিকানাধীন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সুগার মিলের কাঁচামাল আমদানির লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। রাসেল তার চিঠিতে আরো লেখেন, ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর আম্বার গ্রুপের মালিকানাধীন আম্বার ডেনিম লিমিটেডের ৪৫ জন প্রকৌশলীকে পুলিশ অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় ডিবির হারুনুর রশিদ তার কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। 

চিঠিতে তিনি আরো বলেন, ডিবি হারুনের নেতৃত্বে পুলিশের ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল ২০১৯ সালের ২ নভেম্বর গভীর রাতে। সশস্ত্র অবস্থায় তার গুলশানের বাসায়। হাজির হয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার স্ত্রী-পুত্রকে বাসা থেকে আটক। করে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে যায়। এছাড়া একই বছরের পহেলা নভেম্বর ঢাকা। ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে ডিবি হারুনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে গাড়িসহ তার ড্রাইভারকে নিয়ে যায়। পরে ড্রাইভারকে গ্রেফতার দেখিয়ে তাকেও মামলার ২ নম্বর আসামি করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর তিনি এবং তার পরিবারের সবাই সরকারকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা এবং পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। বিটিএমএর প্রেসিডেন্ট হিসেবে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়ার ফলে এ খাতের রপ্তানি ১৩ শতাংশ বেড়ে সাড়ে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এ অবস্থায় তার নামে দেওয়া মামলাকে তিনি দুরভিসন্ধিমূলক এবং তাকে হেয় করার অপচেষ্টা উল্লেখ করে মিথ্যা বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শওকত আজিজ রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইত্তেফাককে জানান, আওয়ামী লীগের সময়ে নির্যাতনের কারণে আমি দেশ ছেড়ে গিয়েছিলাম। দেশে এসে যখন পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করেছি তখন এ মামলা হয়েছে। কে কি উদ্দেশে মামলাগুলো করেছে তা খতিয়ে দেখা উচিত।

ইত্তেফাক/এএইচপি