বিবিএসের দারিদ্র্য মানচিত্র প্রকাশ 

শহরে বেড়েছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা 

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:৫০

দেশে শহরাঞ্চলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে দেশের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। শহরে দারিদ্র্যের হার সাড়ে ১৬ শতাংশ এবং গ্রামে এই হার ২০ ভাগেরও বেশি। তবে দারিদ্র্য হার গ্রামে কমলেও শহরাঞ্চলে বেড়েছে।

আগে শহরে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এখন বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। দেশের সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলার নাম উঠে এসেছে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নাম। বিবিএস এর 'পভার্টি ম্যাপ অব বাংলাদেশ ২০২২'-বা দারিদ্র্য মানচিত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে বিবিএস।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর সামনো লাওসন পার্সিমেন্ট, বিশ্বব্যাংকের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রোগ্রাম লিডার এস আমের আহমেদ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ডাসার উপজেলার দারিদ্র্যের হার ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ। আর জেলা হিসেবে সবচেয়ে দরিদ্র জেলা মাদারীপুর। এই জেলার দারিদ্র্যের হার ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ। সবচেয়ে কম দারিদ্র্য রয়েছে নোয়াখালী জেলায়। এই জেলায় দারিদ্র্যের হার ৬ দশমিক ১ শতাংশ। উপজেলা বা থানাভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে সবচেয়ে কম দারিদ্র্য ঢাকার পল্টন থানায়। সেখানে দারিদ্র্যের হার মাত্র ১ শতাংশ। আর ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানে এ হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ। ঢাকার বাইরে সবচেয়ে কম দারিদ্র্য রয়েছে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং উপজেলায়। সেখানে দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ১ শতাংশ। আর বিভাগ হিসেবে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য বরিশালে। সেখানে দারিদ্র্যের হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব বলেন, এই ম্যাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সরকারের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া দেশের কোন এলাকায় দারিদ্র্যের অবস্থা কেমন তা ম্যাপটি দেখলেই বোঝা যাবে। সহজেই দরিদ্র পকেটগুলোতে সরকার দুর্যোগসহ নানা সময় সহায়তা বাড়িয়ে দিতে পারবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, দেশের দারিদ্র্য অবস্থার প্রকৃত চিত্র জানা থাকলে সরকার সহজেই নীতি নির্ধারণ করতে পারবে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অপুষ্টির হার থেকে বিপুল সংখ্যক জনগণকে রক্ষায় সহজেই উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

পভার্টি ম্যাপে বলা হয়েছে, দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল বিভাগে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ আর সবচেয়ে কম চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। রংপুরে দারিদ্র্যের হার ২৫ শতাংশ। রাজশাহীতে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ, সিলেটে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ময়মনসিংহ ২২ দশমিক ৬ শতাংশ, খুলনা ১৭ দশমিক ১ শতাংশ আর ঢাকা বিভাগে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, দারিদ্র্য বেড়েছে সিলেট, রংপুর, খুলনা ও ঢাকা বিভাগে। বরিশালে দারিদ্র্যের হার বেশি হলেও তা আগের ২৬ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে এখন হয়েছে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২২ সালের খানা আয় ব্যয় জরিপে ঢাকার দারিদ্র্যের হার ছিল ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ যা প্রভাটি ম্যাপ অব বাংলাদেশ ২০২২ সার্ভেতে বেড়ে হয়েছে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে। মানচিত্রে দেখা গেছে, ২০২২ সালের খানা আয় ব্যয় জরিপে গ্রাম এলাকার দারিদ্রদ্র্য ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ, দারিদ্র্য মানচিত্রে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৩ শতাংশ। খানা জরিপে শহর এলাকায় দারিদ্র্য ছিল ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ; দারিদ্র্য মানচিত্রে তা বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিবিএসের দারিদ্র্য মানচিত্রে দেখা যায়, ঢাকায় দারিদ্র্যের হার কম এমন এলাকাগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ধানমন্ডি যেখানে মাত্র ১.৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। এরপরে রয়েছে গুলশান (৩.২ শতাংশ), মোহাম্মদপুর (৪.৬ শতাংশ), রামপুরা (৬.৩ শতাংশ), বাড্ডা (৭.৪ শতাংশ), বনানী (১১.৩ শতাংশ) এবং মিরপুর (১২,৯ শতাংশ)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা জেলার সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার ১৯.৬ শতাংশ। আর সামগ্রিকভাবে দেশের দারিদ্র্যের হার ১৯.২ শতাংশ। বিবিএসের প্রতিবেদনে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো উঠে এসেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের ধনী ও দরিদ্র এলাকাগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক যে বিস্তর বৈষম্য, তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে প্রতিবেদনে।

ইত্তেফাক/এএম