ব্রহ্মপুত্র নদে এক মাসে দুই নৌকায় ডাকাতি, যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:১৩

কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দুটি নৌ-ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্কাবস্থা বিরাজ করছে নৌপথের যাত্রীসাধারণের মধ্যে। ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী-ঢুষমারা ও সুন্দরগঞ্জ—এই তিন থানার মোহনা এলাকায় এই ডাকাতির ঘটনাগুলো ঘটছে। যাত্রীদের দেওয়া তথ্যমতে চলন্ত নৌকায় ১০ থেকে ১৫ জনের ডাকাতের দল আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে নৌকা থামিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেয়। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে ডাকাতি করে সটকে পড়েছে ডাকাত দল। ডাকাতির ঘটনাস্থলগুলো ব্রহ্মপুত্র নদের মোহনা এবং আশপাশের জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বাইরে থেকে ডাকাত দল এসে সুযোগ বুঝে ডাকাতি সেরে পালিয়ে যাচ্ছে । তবে নৌপথে ডাকাতি রোধে টহল জোরদার করেছে বলে জানায় পুলিশ ।

গত বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের কড়াইবরিশাল এলাকার পশ্চিমে ব্রহ্মপুত্র নদের মোহনার চিলমারী-চুামারা ও সুন্দরগঞ্জ থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। ডাকাতি হওয়া নৌকার যাত্রীরা জানান, বুধবার দুপুরে সিরিয়ালের একটি নৌকা চিলমারীর রমনা ঘাট থেকে রাজিবপুরের উদ্দেশে ৪০/৫০ জন যাত্রী নিয়ে রওনা দেয়। নৌকাটি চিলমারীর শেষ সীমানা কড়াইবরিশাল এলাকায় পৌঁছালে ১১ জনের ডাকাত দল ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে নৌকা থামিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে। যাত্রীদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ডাকাত দল যাত্রী নৌকার শ্যালো ইঞ্জিনের হ্যান্ডেল নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

নৌ-পুলিশের এএসআই সেলিম সরকার নৌ-ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নৌকটি উদ্ধার করে নিরাপদে পৌঁছার ব্যবস্থা করে । ১০/১১ জনের মুখোশ পরা একটি দল নৌকার যাত্রীদের মোবাইল ফোন ও টাকা কেড়ে নিয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের সীমান্তবর্ত এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের দুইশ বিঘার চরের কাছে নৌ- ডাকাতির ঘটনা ঘটে । ১৬/১৭ জনের একটি ডাকাত দল ‘পিস্তল’ ও দেশি অস্ত্রের মুখে নৌকার গতিরোধ করে যাত্রীদের জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নিয়ে চলে যায় ।

নৌকার মাঝি ও যাত্রীরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রৌমারী উপজেরার ফুলুয়ারচর নৌঘাট থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে কুড়িগ্রামের ধরলা তীরের ইজতেমার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় একটি রিজার্ভ নৌকা। নৌকটি চামারা থানাধীন অষ্টমীরচর ইউনিয়নের দুইশ বিঘা চরের কাছে পৌঁছালে দুটি ডিঙি নৌকায় করে ১৬-১৭ জনের ডাকাত দল নৌকাটি ঘিরে ফেলে। তাদের মধ্যে ছয়-সাত জনের হাতে পিস্তল ও বাকিদের হাতে রামদা ও দেশি অস্ত্র ছিল । অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করে নগদ টাকাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে নেয়। কয়েক জন যাত্রীকে বেধড়ক মারপিটও করে ডাকাত দল ।

কুড়িগ্রামের ঢুষমারা থানার ওসি মুশাহেদ খান ইত্তেফাককে জানান, ডাকাতির ঘটনা দুটি ব্রহ্মপুত্র নদের মোহনার চিলমারী-ঢুষমারা ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ এলাকার সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত হয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় ডাকাতরা অন্য এলাকা থেকে এসে ডাকাতি সংঘটিত করে দ্রুত সটকে পড়ে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক নৌপথগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন