যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় প্রায় ১৬ মাস ধরে বন্দি থাকা ইসরায়েলি তিন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। ইসরায়েলও ওফার কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি কিছু বন্দিকে ছেড়ে দিয়েছে।
১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ও বন্দি-বিনিময় চুক্তির আওতায় চতুর্থ দফায় এসব জিম্মি ও কারাবন্দিদের মুক্তি দেওয়া হলো।
জানা গেছে, প্রথমে ফ্রেঞ্চ-ইসরায়েলি দ্বৈত নাগরিক ওফার কালদেরন ও ইসরায়েলি ইয়ার্ডেন বিবাসকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে রেড ক্রসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর উত্তর গাজা থেকে ছাড়া হয় আমেরিকান-ইসরায়েলি দ্বৈত নাগরিক কিথ সিগেলকে।
উভয় স্থানেই কয়েকশ হামাস যোদ্ধা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ভিড় সামলেছেন। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মধ্য প্রাচ্যের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ লুসিয়ানো জাকারা বলেছেন, মাসের পর মাসব্যাপী ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের পরও যে হামাস গাজার পরিস্থিতি চাইলে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, শনিবারের জিম্মিমুক্তি তা প্রমাণ করেছে।
গত গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ইসরায়েলের গণহত্যা যুদ্ধ স্থগিত করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে প্রায় ৪৭,৩০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসয়ায়েলি সেনারা, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উপত্যকাজুরে ইসরায়েলি গণহত্যায় ১৭ হাজার ৮৬১ শিশু নিহত হয়েছে। যুদ্ধের সময় অনেক শিশু তাদের হাত ও দেহে নিজের নাম লিখেছিল, যাতে উদ্ধারকারীরা তাদের সনাক্ত করতে পারে।
