সাভারের আশুলিয়ায় আদালতের নির্দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় চার জনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সহকারী কমিশনার ভূমি আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তারের নেতৃত্বে আশুলিয়া থানা পুলিশ শিল্পাঞ্চলের ভাদাইল পবনার টেক, বুড়িরবাজার আমবাগান কবরস্থান ও ইউনিক চাড়ালপাড়া এলাকার দরগারপার কবরস্থান থেকে এ লাশগুলো উত্তোলন করা হয়।
এর মধ্যে ভাদাইল পবনার টেক থেকে উত্তোলন করা হয়েছে আশরাফুল ইসলাম, ইউনিক চাড়ালপাড়া এলাকার দরগারপার কবরস্থান থেকে জাহিদুল ইসলাম সাগর (২৮), বুড়ির বাজার আমবাগান কবরস্থান থেকে আবুল হোসেন (৩৪) ও অজ্ঞাত পরিচয় আরেক জনের লাশ উত্তোলন করা হয়। এদের মধ্যে নিহত আবুল হোসেন (৩৪) কুমিল্লা জেলার মুরাদ নগর থানার ফুলঘর গ্রামের মনির মিয়ার ছেলে এবং জাহিদুল ইসলাম সাগর (২৮) রংপুরের বদরগঞ্জ থানার হাটখোলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তার বলেন, 'আদালতের নির্দেশে আমরা গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত চার জনের লাশ উত্তোলন করেছি। এর আগে নিহতের স্বজনরা আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত লাশ উত্তোলনের নির্দেশ প্রদান করেন। আমরা উত্তোলন করা লাশগুলোর সুরতহাল শেষে ডিএনএ টেস্ট এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি।'
আবুল হোসেনের স্ত্রী লাকি আক্তার জানান, গত ৫ আগস্ট তার স্বামী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তার লাশ থানার ভিতরে ভ্যানে রেখে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্বামীর লাশ ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন যায়গায় ঘুরেও কাজ না হওয়ায় আদালতে মামলা দায়ের করেন, তারই প্রেক্ষিত আজ তার স্বামীর লাশ উত্তোলন করা হয়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে লাশগুলো কবর থেকে উত্তোলনের পর সুরতহাল করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়সহ পরিচয় শনাক্তের জন্য চার জনের লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

