পদ্মায় নিখোঁজের ২৮ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৮:৫৬

রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের ২৮ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্র আসিফ মুস্তাহিদের (১৪) মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে গোদারবাজার এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের গোদারবাজার ঘাট এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় আসিফ।

মৃত আসিফ রাজবাড়ী পৌরসভার ধুঞ্চি গোদার বাজার গ্রামের (৯ নম্বর ওয়ার্ড) মো. আবুল কালাম আজাদের ছেলে। সে শহরের ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১১টার দিকে আসিফ তার তিন বন্ধুর সঙ্গে গোদার বাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে যায়। গোসল করতে নেমে তারা তিনজনই সাঁতার কাটতে কাটতে নদীর ওপাড়ে চলে যায়। তবে এপার আসার সময় দুজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও আসিফ নদীতে তলিয়ে যায়। তাকে উদ্ধারে স্থানীয়রা নদীতে নেমে খোঁজ করলেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা প্রথমে জাল ফেলে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর থেকে পাঁচ সদস্যের একটি ডুবুরি দল এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চালায় ডুবুরি দল। পরে অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখে। উদ্ধার অভিযানের একপর্যায়ে আজ বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তার মরদেহ ভেসে উঠলে ডুবুরি দল উদ্ধার করে।

ফরাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনা সকাল ১১টার দিকে ঘটলেও আমরা সংবাদ পাই দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে। সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে আমি টিম পাঠাই। কিন্তু আমাদের রাজবাড়ীতে ডুবুরি দল না থাকায় ফরিদপুরের ডুবুরি দলকে আনতে হয়। তবে নদীর তলদেশে প্রবল স্রোত থাকায় চার ঘণ্টা উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়েও কিশোরটির কোনো খোঁজ মেলেনি। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উদ্ধার কার্যক্রম ওইদিনের মতো শেষ করা হয়।

তিনি বলেন, রোববার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে নদীতে আবারও উদ্ধার কার্যক্রম চালায় ডুবুরি দল। অবশেষে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে গোদারবাজার এলাকায় নদীর তলদেশ থেকে আসিফের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তার পা চোরাবালুতে আটকে ছিল।

ইত্তেফাক/এমএএস