পিটারের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ নেই 

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৪২

নারী ফুটবলাররা ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ এনেছিলেন। যেসব অভিযোগ এনে কোচ হটাও আন্দোলনে রয়েছেন সাবিনারা, তারা কোচের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির কোনো অভিযোগ আনেননি। বাফুফের বিশেষ কমিটির দেওয়া রিপোর্টে শ্লীলতাহানির বিষয়ে কোনো কথা উল্লেখ করেনি। 

অনেকের ধারণা ছিল যেভাবে মেয়েরা কোচের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কান্নাকাটি করেছেন, তাতে মনে হচ্ছিল আরও কিছু বিষয় রয়ে গেছে যা প্রকাশ করতে পারছেন না। কোচ বডি শেমিং করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। নানা বিষয়ে কথা বলতেন কোচ, খেলোয়াড়রা কফি খেতে গেছেন সেটা নিয়েও নাকি কথা বলেছেন কোচ। আর এটাকে ব্যক্তিগত বিষয় বলেছিলেন দলের ঋতুপর্না চাকমা। 

গত ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাফুফে ভবনের নিচে নারী ফুটবলাররা কোচ পিটারকে নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেন। সেখানেও প্রশ্ন ছিল। কোচ নারীদের সঙ্গে অনৈতিক কোনো কাজ করেছেন কি না। সে উত্তর দেননি খেলোয়াড়রা। ব্যক্তিগতভাবেও প্রশ্ন করা হয়েছিল পিটার মেয়েদের সঙ্গে কোনো অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করেছেন কি না। একজন খেলোয়াড় সঙ্গে সঙ্গে না করে দিয়েছেন। ধারণা করা হয়েছিল বিশেষ কমিটির কাছে মুখ খুলবেন খেলোয়াড়রা। বিশেষ কমিটির একজন সদস্য নারী পুলিশ কর্মকর্তা। তার সঙ্গেও আলাদা কথা বলার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। 

গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল বাফুফে ভবনে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে এক জন এক জন করে কথা বলেছেন। বাফুফের সভাপতির কাছে প্রশ্ন ছিল নারীরা এভাবে বেঁকে বসেছে, তারা কি কোচের বিপক্ষে শ্লীলতাহানির কোনো অভিযোগ এনেছেন কি না। তাবিথ বলেন, 'না না। এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। আমি তো কথা বলেছি। কোনো অভিযোগ তারা করেনি। এমনকি বিশেষ কমিটি যেটা হয়েছিল সে রিপোর্টেও এ ধরনের কথা উল্লেখ নেই। মেয়েরা যদি পিটারের বিপক্ষে অনৈতিক কোনো অভিযোগ করতেন তাহলে আমি তাকে... বিদায় করে দিতাম।' 

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

তাবিথ বলেন, 'মেয়েরা যেসব অভিযোগ করেছে, সেগুলো আমরা গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করেছি। এরপর যদি কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে সেভাবেই দেখা হবে। এটা নিয়ে একটা পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।' 

১৮ ফুটবলার এখনো তাদের অবস্থানে রয়েছেন। বাফুফেও যা বলার বল দিয়েছে। কেউ যদি অনুশীলনে আসে ভালো, না আসলে কিছু করার নেই। বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল নিজেই সাবিনাদেরকে বুঝিয়েছেন। কিন্তু এখনো তারা কোচের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেই যাচ্ছেন। বাফুফের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছেন না। 

আরব আমিরাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অন্যান্য ফুটবলাররা। ক্যাম্পে নারী ফুটবল দল নিয়ে বাফুফের পরিকল্পনা হচ্ছে এক বছরের জন্য চুক্তি করা। কিন্তু কিছু ফুটবলারকে এখনই চুক্তি করার কথা উঠছে। এ ব্যাপারে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল কোনো কিছু না বললে জানা গেছে আফিদা খন্দকার, সুরমা, আইরিন, আকলিমা, ইয়ারজান, রিপা, কোহাতি কিসকু, প্রীতি, অর্পিতা বিশ্বাস, স্বপ্না, মুনকির জন্য চুক্তিপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ