চ্যাম্পিয়নস ট্রফি 

প্রস্তুত আয়োজক পাকিস্তান, তিন স্তরের নিরাপত্তা 

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫:৩১

দরজায় কড়া নাড়ছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির নবম আসর। সাত বছর পর বসতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টটি। এবারের আয়োজক পাকিস্তান হলেও ভারতের আপত্তির কারণে আসরটি অনুষ্ঠিত হবে হাইব্রিড মডেলে। যেখানে ভারতের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে দুবাইতে। পাশাপাশি প্রথম সেমিফাইনালও অনুষ্ঠিত হবে সেখানে। আর ফাইনালসহ বাকি সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানের তিনটি ভেন্যুতে। 

তবে যদি ভারত ফাইনালে উঠে তাহলে শিরোপা নির্ধারণীর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে দুবাই। আর এই টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে পরিচালনা করার জন্য প্রস্তুত পাকিস্তান। পাশাপাশি লম্বা সময় পর ঘরের মাটিতে আইসিসির টুর্নামেন্ট পরিচালনা করার জন্যও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রস্তুত রেখেছে দেশটি। 

পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, টুর্নামেন্টটিকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরবিশিষ্ট পরিকল্পনা। যেখানে যৌথভাবে কাজ করবে সেনাবাহিনী, রেঞ্জার্স ও পুলিশ। এ বিষয়ে পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার নিশ্চিত করেছে যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে এই নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

দেশটির সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদের আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে, যা চলতি মাসের মধ্যভাগ থেকেই কার্যকর হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাদ্দাফি স্টেডিয়াম, করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুগুলোর নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে তিন স্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে পুলিশ, রেঞ্জার্স ও সেনাবাহিনী একযোগে কাজ করবে, যাতে দর্শক, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। 

এ দিকে লম্বা বিরতির পর আইসিসির কোনো টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাকিস্তানে। সবশেষ দেশটি ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সহ-আয়োজক ছিল। এরপর আর আইসিসির কোনো টুর্নামেন্ট এই দেশটিতে গড়ায়নি। মাঝে ২০০৯ সালে লাহোরে একটি ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হওয়ার পর তো অনেক দল দেশটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে যেতে চাচ্ছিল না। 

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তাতে ফের আইসিসির টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। আর আসন্ন এই টুর্নামেন্টের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত পিসিবি। সম্প্রতি এমনটি জানিয়েছেন বোর্ডের সভাপতি মহসিন নাকভি। নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আয়োজক দেশ সফলভাবে এই আসর সম্পন্ন করতে চান তিনি। 

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির। আসরটিতে অংশগ্রহণ করবে আট দল, যাদের ভাগ করা হয়েছে দুটি গ্রুপে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। টুর্নামেন্টটি ৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে। মোট ১৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। 

ম্যাচগুলো পাকিস্তানের তিনটি শহর-করাচি, লাহোর ও রাওয়ালপিন্ডি এবং দুবাইতে হবে। আর ফাইনাল ম্যাচটি নির্ভর করবে ভারতের ওপর। বিরাট-রোহিতরা ফাইনালে উঠলে ম্যাচটি হবে দুবাইয়ে আর না উঠলে অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানে। ইতিমধ্যে আসরটির বেশির ভাগ ম্যাচেরই টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ