আসামির অবস্থান নিয়ে পুলিশের পরস্পরবিরোধী তথ্য

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ২০:৫৭

তেজগাঁও থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি জুলহাস মিয়ার অবস্থান নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। একইসঙ্গে ওই আসামির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তথ্য দেওয়ায় ভোলার পুলিশ সুপারকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ২০ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। 

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজউদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।
 
জুলহাস মিয়ার অবস্থান কি সে বিষয়ে আদালতকে জানাতে ডিএমপি কমিশনার ও ভোলার এসপিকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের প্রেক্ষিতে ডিএমপি কমিশনার যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রতিবেদন দেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলহাস ১০ থেকে ১২ বছর আগে পরিবার নিয়ে ভোলায় চলে গেছে। তবে ভোলার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোলায় জুলহাস নামে কোনও আসামি নেই। তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ভোলা সদর এলাকায় পশ্চিম বাপতা নামে কোন গ্রামও নেই। এই প্রতিবেদনটি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের দুই বিচারপতির বরাবর সরাসরি খামে পাঠানো হয়। এভাবে চিঠি পাঠানোয় অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। 

আরো পড়ুন: পুরান ঢাকায় ভবন ধস

এ পর্যায়ে অস্ত্র মামলার আরেক আসামি অশীতিপর রাবেয়া খাতুনের আইনজীবী আশরাফুল আলম নোবেল আদালতে বলেন, ২০০৪ সালের পহেলা নভেম্বর তেজগাঁওয়ের তেস্তুরিবাজারে জুলহাসকে দুষ্কৃতিকারীরা হত্যা করে। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। অথচ পুলিশ পরস্পর বিরোধী প্রতিবেদন দিয়েছে। 

আদালত বলেন, দেখুন পুলিশের তদন্তের অবস্থা! এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল উপস্থিত ছিলেন।
 
অবৈধ অস্ত্র ও গুলিসহ তেজগাঁও থানার মামলায় রাবেয়া খাতুনকে ২০০২ সালের ২ জুন গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই মামলার বিচার দীর্ঘ ১৬ বছরেও শেষ না হওয়ায় হাইকোর্ট রুল জারি করে।

ইত্তেফাক/এমআই