তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো একজন ইহুদি রাব্বি জোসেফ হামরা এবং তার ছেলে হেনরি সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে এসেছেন। তারা শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছে একটি উপাসনালয়ে হিব্রু ভাষায় হাতে লেখা তোরাহ পাঠ করেন।
১৯৯০-এর দশকে সিরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাফেজ আসাদ দেশটির ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে জোসেফ হামরা ও ছেলে হেনরি সিরিয়া ছেড়ে পালিয়ে যান। সেই সময় সিরিয়ার কয়েক হাজার ইহুদির কার্যত সকলেই তাত্ক্ষণিকভাবে দেশ ছাড়ে। জোসেফ চলে যান নিউ ইয়র্কে।
৭৭ বছর বয়সী জোসেফ বলচিলেন, (দেশত্যাগ করে) আমরা কি কারাগারে ছিলাম না? আমরা দেখতে চাইছিলাম বাইরে কী আছে। আমাদের সাথে যারা চলে গিয়েছিল, তারা সবাই মারা গেছে।
গত ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। তখন জোসেফ হামরার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ সিরিয়ান ইমার্জেন্সি টাস্ক ফোর্সের সহায়তায় দামেস্কে সফরের পরিকল্পনা করে।
তারা সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। নতুন কর্তৃপক্ষ বলেছে, সিরিয়ার সব সম্প্রদায় তাদের দেশের ভবিষ্যতে ভূমিকা রাখবে।
৪৮ বছর বয়সী হেনরি হামরা বলেন, সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন ইহুদি ঐতিহ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা সরকারের সহায়তা চাই, সরকারের নিরাপত্তা চাই।
ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ওল্ড সিটির সংকীর্ণ প্যাসেজ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হেনরি ও জোসেফ তাদের এক সময়ের প্রতিবেশী ফিলিস্তিনি সিরীয়দের কাছে ছুটে যান। পরে বেশ কয়েকটি সিনাগগে হাতে আঁকা হিব্রু অক্ষর দেখে অবাক হন। হেনরি বলেন, আমি চাই আমার বাচ্চারা ফিরে আসুক এবং এই সুন্দর উপাসনালয়টি দেখুক। এটি একটি শিল্পকর্ম।
