৫৫ তম সীমান্ত সম্মেলন

অস্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের প্রতিবাদ জানালো বিজিবি

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২১:৫৫

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)’র মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের জিরো লাইনে ভারতের স্থাপন করা অস্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের ৫৫তম সম্মেলন। এতে বাংলাদেশের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিবি ডিজি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএসএফের ডিজি দলজিৎ সিং চৌধুরী।

৫৫তম সম্মেলন ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সীমান্ত নিয়ে বাংলাদেশ—ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়ন সৃষ্টি হয়।

এর মধ্যে গেল আগষ্টে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পানির বাঁধ ছেড়ে দেয়ায় বাংলাদেশের ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ বন্যা হয়। তাছাড়া মৌলভীবাজার ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়।

সবশেষ লালমনিরহাটের দহগ্রাম—আঙ্গরপোতার চারদিক বিএসএফ সীমান্তের জিরো লাইনে অস্থায়ি কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পৌঁছে। পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করে ডিজি পর্যায়ের বৈঠক গত সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

সীমান্ত সম্মেলনের বৈঠক সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিজিবি দুই দেশের সীমান্তের জিরো লাইনে বিএসএফ কর্তৃক অস্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া (ক্যাটল ফেন্স) নির্মাণের প্রতিবাদ জানায়।

এতে বিএসএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের পক্ষ থেকে যা কিছু করা হয়েছে বা হচ্ছে, তা দুই দেশের স্বীকৃত বোঝাপড়া অনুযায়ী। বোঝাপড়ার বাইরে কিছু করা হচ্ছে না। বিজিবির উচিত দুই দেশের সার্বভৌম সরকারের সেই সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া।

এর জবাবে বিজিবির পক্ষে বলা হয়, সেই বোঝাপড়াতেই বলা আছে, বেড়া দেওয়ার আগে তা কোথায় দেওয়া হবে, কীভাবে দেওয়া হবে সেই বিষয়ে দুই বাহিনী যৌথ জরিপ করবে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই নীতিগত সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না। সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে একতরফা। সেই কারণেই আপত্তি উঠেছে। কোথাও কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।

দহগ্রাম—আঙ্গরপোতা গ্রামের চারদিকের কয়েকটি পয়েন্টে বিএসএফ জোরপূর্বক অস্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করেছে। সীমান্তের জিরো লাইনে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের কোনো চুক্তি নেই দুই দেশের মধ্যে।

চুক্তি অনুযায়ী জিরো লাইন থেকে দেড়শ গজ দূরে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করতে পারবে উভয় দেশ। ডিজি পর্যায়ের এই বৈঠকে সীমান্ত হত্যা আক্ষরিক অর্থে শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে এই জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

ভারতের পক্ষে বলা হয়, বিএসএফ সব সময় সেই চেষ্টা করে। কিন্তু কখনো কখনো সংগঠিত অপরাধচক্র এমন আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে যে গুলি চালানো ছাড়া উপায় থাকে না। এই প্রবণতা ও অপরাধ বন্ধে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা রূপায়ণের ওপর জোর দিয়েছে বিএসএফ।

তাছাড়া সীমান্তজুড়ে চোরাচালান বন্ধ, অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণসহ সব বিষয়ই এই বৈঠকে আলোচিত হয়।

ইত্তেফাক/এপি