ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের একটি শরণার্থী শিবিরে ঢুকে তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় আহমেদ নাবিল সোভ ও হাকাম মুহাম্মদ আল-খতিব নামে দুই ফিলিস্তিনিকে অবরুদ্ধ বাড়ির কাছে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তারও করা হয়।
ফিলিস্তিনি ওয়াফা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তুবাস এলাকার একটি বাড়ি ঘিরে ফেলার পর এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী তিনটি লাশই আটকে রেখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দখলদার বাহিনী বাড়িটি থেকে সরে যাওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্স-কর্মীরা প্রবেশ করে এবং ভেতরে মৃতদেহের অংশ ও রক্তের চিহ্ন দেখতে পায়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তিন ফিলিস্তিনি 'সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যে অস্ত্র বিক্রি করা' ব্যক্তি ছিল।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জেনিন এবং এর শরণার্থী শিবিরের পাশাপাশি তুলকারেম ও নুর শামস শরণার্থী শিবিরসহ পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে সপ্তাহব্যাপী বড় আকারের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। যার ফলে হাজার হাজার লোক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে।
ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ওই অঞ্চলটিতে শত শত সৈন্য ও বুলডোজার মোতায়েন করেছে। এগুলো দিয়ে শরণার্থী শিবিরের বাড়িঘর ধ্বংস করা হচ্ছে, বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ।
গত জানুয়ারিতে পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। এসব ক্যাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা-ইউএনআরডাব্লুএ জানিয়েছে, পশ্চিম তীরজুড়ে বাড়িঘর ধ্বংস এবং শরণার্থী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি সেনারা। এ সময় বহু ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে এবং কমপক্ষে ৪০ হাজার লোক পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
