বিয়ের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪:৩৪

মাদারীপুরে বিয়ের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, একই গ্রামের ওসমান হাওলাদারের ছেলে লিটন হাওলাদার (৩৫), মোকলেস হাওলাদারের স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৬০), মোকলেছ হাওলাদারের মেয়ে আছিয়া বেগম (৪৫) ও ছেলে রাসেল হাওলাদার (২৭), এছহাক হাওলাদারের স্ত্রী সাহেদা বেগম (৪০), মানিক হাওলাদারের ছেলে দেলোয়ার হাওলাদার (৪৫), মাজেদ হাওলাদারের ছেলে এরশাদ হাওলাদার (৩৮), শাহাদাৎ আলী শেখের ছেলে ইলিয়াস শেখ (৪০), দেলোয়ারের ছেলে কালাচাঁন (২২), শাহেদ আলী শেখের ছেলে সলেমান শেখ (২৫)। আহতদের মধ্যে বাকিদের নাম জানা যায়নি।

পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, খামারাবাড়ি গ্রামের মজিবর হাওলাদারের ছেলে ইতালি প্রবাসী শাহাদাৎ হাওলাদারের সঙ্গে পাশের ঘটকচর এলাকায় বিয়ে ঠিক হয়। শনিবার ছেলেপক্ষ থেকে বউ আনার প্রস্তুতিতে শুক্রবার দুপুরে এলাকায় অগ্রিম দাওয়াত দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয় একই গ্রামের নুরু হাওলাদারের ছেলে কুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল হাওলাদার ও তার স্বজনদের। তবে তারা দাওয়াত ফিরিয়ে দেন এবং নিজেরাই খাওয়ার  আয়োজন করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রফিকুল ও সালাম হাওলাদারসহ তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শুক্রবার বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালায়।

মূলত দীর্ঘদিন ধরে একটি মামলা নিয়ে শাহাদাৎ হাওলাদারের চাচাতো ভাই শহীদুল খানের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন রফিকুল হাওলাদারসহ তার লোকজন। একপর্যায়ে ক্ষমতাবলে মামলাটি মীমাংসা করলেও আক্রোশ কাটেনি তাদের। পরে শুক্রবার শহীদুলের চাচাতো ভাইয়ের বিয়ের বৌভাত অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

শহিদুল খান বলেন, আমার চাচাতো ভাইয়ের বিয়ের বৌভাত অনুষ্ঠানে মেম্বার রফিকুলসহ তাদের বাড়ির সবাইকে দাওয়াত দিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের দাওয়াত ফিরিয়ে দিয়ে নিজেরা খাওয়ার আয়োজন করে। এরপর আবার আমাদের অনুষ্ঠান পণ্ড করার জন্য হামলা চালায়। এখন আমরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলাম। সেই জেরেই এই হামলা করেছে।

অভিযুক্ত রফিকুল হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকছেদুর রহমান বলেন, অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া ও খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এপি