উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে গলদা চিংড়ি চাষ উৎপাদন দ্বিগুণ

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৩:৩৮

দেশের সাদা সোনাখ্যাত চিংড়ির দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদন ক্ষেত্র সাতক্ষীরা। আশির দশকে শুরু হওয়া এই চিংড়ি চাষ এখনো সনাতন পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ থাকায় আগের মতো আর উৎপাদন হচ্ছে না। এই সময়ে উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে গলদা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নের লক্ষ্মীখোলা গলদা ক্লাস্টার চাষিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ মৎস্য বিভাগের সাসটেইনেবল ক্লাস্টার অ্যান্ড মেরিল ফিশারিজ প্রজেক্টের আওতায় ২০ একর ২৪ শতাংশ জমি নিয়ে ২০ জন মৎস্যচাষি উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ শুরু করেছে। এই পদ্ধতিতে গতানুগতিক চাষের তুলনায় দ্বিগুণ গলদা উৎপাদন হয়েছে। তবে লক্ষ্মীখোলা গলদা ক্লাস্টার চাষিদের দাবি প্রকল্পটি এক বছরের পরিবর্তে দুই-তিন বছর করা হলে এই প্রকল্পের আওতায় এলাকার সব চাষি অধিক লাভবান হবেন।

লক্ষ্মীখোলা গলদা ক্লাস্টার প্রকল্প কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার গাইন জানান, ২০২৪ সালে মৎস্য অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাসটেইনেবল ক্লাস্টার অ্যান্ড মেরিল ফিশারিজ প্রজেক্টের আওতায় এক বছরের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে আশাশুনি উপজেলা মৎস্য অফিসের বাস্তবায়নে ২০ একর ২৪ শতক জমি ও ২০ মৎস্যচাষি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এরপর মৎস্য বিভাগ থেকে নগদ অর্থ ও প্রশিক্ষণসহ সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে ২০টি পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করা হয়। এতে গতানুগতিক পদ্ধতির চেয়ে দ্বিগুণ মাছ উৎপাদন হয়েছে । যার ফলে কমিটির সব সদস্য লাভবান হয়েছেন।

কমিটির সহসভাপতি বিজয় কুমার গাইন জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ২০টা পুকুর খনন করা হয়েছে। পুকুরে গলদা চিংড়ির পাশাপাশি কিছু রুই-কাতল ও মৃগেল মাছ ছাড়া হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গলদাসহ অন্য মাছগুলো অনেক বড় হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুকুরের বেড়িবাঁধ ওপর দিয়ে শীতকালীন সবজি
টম্যাটো, লাউ, ওলকপি, ফুলকপি, শিমসহ নানা সবজি লাগানো হয়েছে । ফলে মাছের পাশাপাশি সবজিও উৎপাদন হচ্ছে।

কমিটির সদস্য আজারুল ইসলাম মন্টু জানান, প্রথম বছরেই সকল খরচ করে প্রজেক্ট চালু করতে হয়। আর এক বছরের মধ্যে শেষ হয় । তাই প্রজেক্টের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

আশাশুনি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিত মজুমদার বলেন, আশাশুনি উপজেলায় তিনটি ক্লাস্টার রয়েছে। যার মধ্যে বড়দল ইউনিয়নের লক্ষ্মীখোলা গলদা ক্লাস্টারের মাছ ধরা হচ্ছে। যেখানে ফলাফল অনেক ভালো । এই প্রজেক্টের আওতায় মৎস্যচাষিদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চুন, সার, খাবার থেকে শুরু করে সব সহযোগিতা করা হয়েছে। যার ফলে চাষিরা এই প্রজেক্টের আওতায় চাহিদা বেড়েছে। তবে তিনি সামনে চৈত্র মাস তাই ছয় ফুট গভীর পুকুর খনন করে চাষিদের গলদা চাষের পরামর্শ দেন।

উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে গলদা চিংড়ি চাষ একদিকে যেমন চাষিদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় রাখছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্রযুক্তির প্রচার ও প্রশিক্ষণ দিলে বাংলাদেশে গলদা চিংড়ি চাষ আরো প্রসারিত হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ইত্তেফাক/এএইচপি