পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে দুটি বৃহৎ বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অগ্নিদুর্ঘটনার হুমকির মুখে থাকলেও এখানে কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। ফলে পশ্চিম পাড়ে প্রতি বছর অগ্নিকাণ্ডে কোটি কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ভস্মীভূত হয়।
সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ারহাট বন্দরে একটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পূর্ব পাড়ের উপজেলা সদর থেকে দমকল বাহিনীর সদস্যরা বিশাল সন্ধ্যা নদী পার হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ৪৫টি দোকান মালামালসহ ভস্মীভূত হয়। বছর খানেক আগেও ইন্দুরহাট বন্দরের চারটি ও মিয়ারহাট বন্দরসংলগ্ন মোল্লাবাড়ি এলাকায় পাঁচটি দোকান মালামালসহ পুড়ে যায়। ফলে অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে ফায়ার স্টেশন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।
জানা যায়, ব্যবসাসমৃদ্ধ স্বরূপকাঠি উপজেলাকে সন্ধ্যা নদী দুই ভাগে ভাগ করেছে। একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন নিয়ে নদীর পূর্ব পাড়ে উপজেলা সদর এবং সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে রয়েছে ছয়টি ইউনিয়ন। পশ্চিম পাড়ে ইন্দুরহাট, মিয়ারহাট দুটি বড় বন্দর, কৌরিখাড়া বিসিক শিল্প নগরীসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। এছাড়া ডুবি, আলকিরহাট, করফা, দৈহারী, গনকপাড়া, চিলতলা, রাজবাড়ি, বিন্না, উড়িবুনিয়া, একতা বাজারসহ আরো ১০-১৫টি ছোট বাজার রয়েছে। সরকারি স্বরূপকাঠি কলেজ, ফজিলা রহমান মহিলা কলেজ, রাজবাড়ি কলেজ, শহিদ স্মৃতি বি এম কলেজসহ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এ পাড়ে। রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিওর অফিস। আগুনের হাত থেকে এসব স্থাপনা রক্ষার্থে আজও নদীর পশ্চিম পাড়ে স্থাপন করা হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন বা নৌ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন।
মিয়ারহাট বন্দর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান বাদল বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ আগুনে বন্দরের ৪৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোহাগদল ইউপি চেয়ারম্যান ও ইন্দেরহাট বন্দর কমিটির সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ বলেন, এ পাড়ে কোনো ফায়ার স্টেশন নেই। ফলে সবসময় আগুন আতঙ্কের মধ্যে থাকেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা।
তিনি বলেন, এখানে কোনো অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দমকল বাহিনীকে সন্ধ্যা নদী পার হয়ে আসতে হয়। এ সময়ের মধ্যে বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই আগুনের হাত থেকে বন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষার্থে নদীর পশ্চিম পাড়ে অনতিবিলম্বে ফায়ার সার্ভিস বা নৌ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা প্রয়োজন।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বনি অমিন বলেন, নদীর পশ্চিম পাড়ে একটি নৌ ফায়ার স্টেশন স্থাপিত হলে বিশাল বাণিজ্যিক এলাকার অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত হতো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রায়হান মাহামুদ বলেন, সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হবে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
