ভোলার তজুমদ্দিনে পাওনা টাকা চাওয়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ তার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পরিবার। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দুপুরে তজুমদ্দিন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে এ অভিযোগ করেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহীম মিয়া।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত দুই মাস আগে উপজেলার মুচিবাড়ির কোনায় আমার দোকানে ৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকার স্বর্ণের জিনিসের অর্ডার করেন পাশের হোমিও ঔষধ ব্যবসায়ী আবু জাফর। অর্ডার করার সময় ১ লক্ষ টাকা দেন আর জিনিস নেওয়ার সময় ৫০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে জিনিস নেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ২ মার্চ বাকী ৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা চাইতে গেলে ক্ষিপ্ত হন জাফর। পরে বিকেল সোয়া ৫টায় আমি আসরের নামাজ পড়ে দোকানে আসলে আবু জাফরের নেতৃত্বে তার আত্মীয় সোহাগ, শাহাবুদ্দিন, হারুন, সুমন, তোফাজ্জল ওরফে তজা ও নয়নসহ ১৫-২০ জনের একটি গ্রুপ আমার ওপর ও আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। দোকানের পিছনে থাকা আমার স্ত্রী জবেদা সুলতানা পিনু, ছেলে ইমরান হোসেন হৃদয় ও মেয়ে রহিমা আক্তার মিতু এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারপিট করে।
তিনি আরও জানান, এ সময় মুচিবাড়ি কোনায় ব্যবসা করতে হলে আবু জাফর আমার নিকট আরও দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। এরপর বাজার ব্যবসায়ীরা আমাকে ও আমার পরিবারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় তজুমদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান ব্যবসায়ী। পরে তিনি ভোলা কোর্টে একটি মামলা করেন।
ইব্রাহীম মিয়া জানান, বর্তমানে অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছে। অভিযুক্ত জাফর এক সময় তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের ছত্রছায়ায় থাকতেন বর্তমানে ওই এলাকার এক বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় থেকে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তজুমদ্দিন থানার উপ-পরিদর্শক অসিম জানান, মুচিবাড়ির কোনায় ব্যবসায়ীর উপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
