বিরোধের জের ধরেই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ভাষানটেক থানার এক হত্যা মামলার আসামি করা হয় অনলাইন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান মো. আক্তারুজ্জামানকে। মামলার এজাহারে তাকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে আওয়ামী লীগের পদ-পদবি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে আসামি পক্ষের দাবি জমিজমা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছিল আক্তারুজ্জামানের। সেই বিরোধের সুযোগ নিয়েছে তারা।
গত ৩ আগস্ট এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে কালবেলা অনলাইন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাষানটেক থানায় করা হত্যা মামলার বাদী ঢাকার সিএমএম (চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতে হলফনামা দেন। হলফনামায় তিনি বলেন, তার অজ্ঞাতসারে ভুলবশত আক্তারুজ্জামানের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলা থেকে আক্তারুজ্জামানের নাম প্রত্যাহারেরও আবেদন করেন তিনি। পরে আবেদনটি গৃহীতও হয়। কিন্তু তারপরেও গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের অফিস থেকে আক্তরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় তাকে।
এদিকে স্বজনদের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর একে একে তার ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলে নিচ্ছে প্রতিপক্ষ গ্রুপ। ভুয়া মামলায় আক্তারুজ্জামানের গ্রেপ্তারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
জানা গেছে, ডিএমপির ভাষানটেক থানার এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন আক্তারুজ্জামান। গত বছরের ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরের ১৪ নম্বর সড়কের মোড়ের ফিলিং স্টেশনের সামনে আনন্দ মিছিলে গুলিতে নিহত হন পোশাক শ্রমিক মো. ফজলু। এ ঘটনায় ফজলুর ভাই মো. সবুজ বাদী হয়ে ডিএমপির ভাষানটেক থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারনামীয় ১৬৫ আসামির মধ্যে ২২ নম্বর আসামি করা হয় ব্যবসায়ী খান মো. আক্তারুজ্জামানকে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আক্তারুজ্জামান ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই কমিটির ১১ জন সহ-সভাপতিসহ ২৫ সদস্যের মধ্যে কোথাও আক্তারুজ্জামানের নাম নেই।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বাদী মো. সবুজ বলেন, ‘আমার ভাইয়ের হত্যার সঙ্গে খান মো. আক্তারুজ্জামানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার নাম কীভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাও আমার জানা নেই। আমি আদালতে হলফনামার মাধ্যমে আক্তারুজ্জামানের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করেছি।’
আক্তারুজ্জামানের ব্যক্তিগত সহকারী জাহিদুল ইসলাম রাজু জানান, ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আক্তারুজ্জামান গ্রেপ্তার হয়েছেন। এরপর থেকেই ইসিবি চত্বরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে একটি দোকানের তালা ভেঙ্গে দখল নিয়েছে প্রতিপক্ষরা। সূত্র: কালবেলা
