বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ফুটবলার হামজা চৌধুরী যখন লেস্টার সিটির জার্সি গায়ে খেলেছেন, ২০১৮ সালে লন্ডনে মাঠে বসে তার খেলা দেখেছেন ফুটবল কোচ এ কে এম মারুফুল হক। তখন মনে হয়নি হামজা কখনো বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারেন। সেই হামজা এখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলবেন, এটা মারুফুল হকের কাছে একটি ভালো খবর। মারুফুল হচ্ছেন কোচ। মাঠে গেলে কোচের মতো করে দেখার চেষ্টা করেন। হামজাকে নিয়ে মারুফুলের ভাবনাটা এমন-'২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাই ম্যাচে জিততে পারে বাংলাদেশ।'
১১ জনের খেলায় হামজা কি একাই সব করে দিতে পারবেন? মারুফুল বলছেন, 'এখানে কথা হচ্ছে হামজার মতো একজন ফুটবলার যখন আপনার দলে থাকবেন, তখন পুরো দলের চেহারাটা বদলে যাবে। বর্তমান ফুটবল দলটা হামজাকে নেওয়ার মতো ক্ষমতা রাখে। কারণ এই দলটা একটা শেপে আছে। হামজার মতো একজন ফুটবলার যখন নিজে উজাড় করে দিয়ে খেলবেন, তখন অন্যরাও নিজের সেরাটা দিয়ে লড়াই করবেন। যেটাকে আমরা জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করার কথা বলি।'
মারুফুল হক উদাহরণ দিলেন, 'এটা একটা লটারি পাওয়ার মতো। আপনি যদি প্রথম পুরস্কার পান, তাহলে কিছু অর্থ আপনার পরিবারকে দিলেন। আপনার পরিবার সেটা কীভাবে কাজে লাগাবে, সেটা তাদের ব্যাপার। হামজার কাছ থেকে কিছু পেয়ে যদি মাঠে কাজে লাগাতে না পারে, সেটা তাদের ব্যর্থতা। কাজে লাগাতে পারলে সুফলটা পাবে দেশের ফুটবল।'
ফুটবলে অনেক দিন ভারতের বিপক্ষে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে জিততে পারে বাংলাদেশ। মারুফুল হক সেটাই মনে করছেন। 'আমি আশাবাদী, ম্যাচ জিততে পারে। আগে ড্র হলে জেতার মতো খুশি হতো। এখন এই ফুটবলাররা খেলতে চায়। আসলেই জিততে চায়। এটা একটা পজিটিভ দিক।'
মারুফুল হক যোগ করেন, 'আগে দৈন্যদশা ছিল। গত দুই এক বছরে ফুটবলারদের মানসিকতায় পরিবর্তন হচ্ছে। প্রথমত হচ্ছে জাতীয় দলের ফুটবলাররা এখন নেগেটিভ থেকে পজিটিভের দিকে, ট্রানজিশন পিরিয়ডের দিকে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে হামজার অন্তর্ভুক্তি। হামজা যে পজিশনে খেলবে প্রাণপণ লড়াই করবেন এবং অন্যরাও প্রাণ দিয়ে লড়াই করবেন।' হামজা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। সে তো একা সব খেলে দিতে পারবে না, নিজের পজিশনে খেলতে হবে।
মারুফুল হক বললেন, 'আমি কোচ হলে হামজাকে নির্দিষ্ট কোনো পজিশনে রাখতাম না। ফ্রিডম দিয়ে দিতাম। নিজের মতো খেলো। বক্স টু বক্স খেলতে পারে। হামজা বল পায়ে যখন যেখানে যেতে চায় সেটা হতে দাও। অন্যদের উচিত তাকে মার্ক করা। হামজাকে জায়গা মতো বল দেওয়া, হামজা কখন কোথায় বল ছাড়বে সেটি যেন সঙ্গের খেলোয়াড়রা বুঝতে পারেন, ভুল যেন না হয়। দেখা যাক কোচ হামজাকে কীভাবে ব্যবহার করেন। আমার কথা হচ্ছে হামজার সঙ্গে সবাইকে সেরাটা দিতে হবে।'
