পেপার মিল ও হ্যাচারির বর্জ্যে দূষিত অস্তিত্ব সংকটে খালে রূপ নিয়েছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের গজারিয়া নদী। মিলের পরিশোধন ব্যবস্থা (ইটিপি) চালু রাখাসহ দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে গজারিয়া খাল থেকে আবারো পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার দাবি এলাকার ভুক্তভোগীদের।
করতোয়ার নদী থেকে সৃষ্ট গজারিয়া নদী জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জে প্রবেশ করেছে। কাগজ কলমে নদী হিসাবে গজারিয়ার পরিচিতি থাকলেও কালের বিবর্তনে এখন নদীটি সরু খলে পরিনত হয়েছে।
স্থানীয় জানান, প্রবাহমান এই খালটিতে একসময় মানুষ মাছ ধরতো, গোসল করতো। শুধু তাই না এই খালের পানি দিয়ে ফসলে সেচ দেওয়াসহ স্থানীয়রা নানা কাজে খালটির পানি ব্যবহার করৎ। কিন্তু কালের বিবর্তনে এই খালের পানি আজ একদম ব্যবহারের অনুপযোগী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতের আঁধারে পোল্ট্রি হ্যাচারির নানা মায়লা আবর্জনা আর পেপার মিলের বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত তরল বর্জ্য ফেলা হয় এই নদীতে। ফলে ক্ষতিরমুখে পড়েছে এলাকার কৃষি ও জলজ প্রাণী। কেমিক্যাল মিশ্রিত তরল বর্জ্যে খালটি এখন এমনটাই দূষিত হয়ে পড়েছে যে এই কেমিক্যাল মিশ্রিত ময়লা শরীরের লাগলে ঘা চুলকানি সহ নানা রোগ দেখা দেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, এই খালের পাশে একটি মাদ্রাসা, সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। খালের বর্জ্যের দুর্গন্ধে ঠিকমতো ক্লাস করতে পারেন না শিক্ষার্থীরা। একই অভিযোগ ওই দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরও।
সরওয়ার জাহান নামে স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এই নদী দূষণরোধে প্রসাশনের বিভিন্ন দপ্তরে কার্যকর ব্যবস্থার নেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। কিন্তু, অজ্ঞাত কারণে এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, কারখানার দু’টির মালিক প্রভাবশালি হওয়ায় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন ভূমিকা রাখছেনা। বরং আবেদনের পর পেপার মিল ও হ্যাচারীর মালিক আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা এখন প্রকাশ্যে নদীতে ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করছে।
গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। তবে পেপার মিলের বর্জ্যে নতুন করে খালে ফেলানোর কোন প্রমাণ না থাকায় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।
এ ব্যপারে রাজা পেপার মিলের দায়িত্বে নিয়োজিত রন্টু মিয়ার মোবাইলে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় তার কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও হ্যাচারি কর্তৃপক্ষে বক্তব্য জানার জন্য গেলে তারা গেট খুলে না দেয়ায় তাদের সাথেও কথা বলা যায়নি।
তবে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টা ও পেপার মিল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতায় গজারিয়ার দূষণ রোধ করে নদীটির ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আসবে এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
