গবেষণা আমাদের সমাজের উন্নতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং মানুষের জীবনমানের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। কোনো সমাজে যখন নতুন জ্ঞান বা প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়, তখন সেটির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায় গবেষণাগার। তাই সমাজে আমূল পরিবর্তন ঘটাতে গবেষণাগারের ভূমিকা অপরিসীম। একেকটি প্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে থাকে। তবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণা করার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে পারে; যেমন—কোনো শিক্ষার্থী যদি বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য ডিগ্রি নিতে চায়, তাহলে স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য প্রয়োজন গবেষণা করা। এছাড়াও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য গবেষণা করার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বাংলাদেশের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে নেই পর্যাপ্ত গবেষণাগার।
গবেষণা নতুন নতুন উদ্ভাবন ও সৃষ্টির দরজা খুলে দেয়। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, কৃষি, শিল্প ও পরিবেশ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই গবেষণা আমাদের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, তাহলে তা কেবল প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্যই নয়, বরং পুরো সমাজ ও দেশের উন্নতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার মাধ্যমে আমরা নতুন সমাধান, উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়াতে পারি।
গত বছর দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৫৪১টি। এরপর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, ১০৭৩টি, বুয়েট ৮৯৯টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৬৬০টি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ৬৫৬টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৬২৩টি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮৮টি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৫১টি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ৫৪৪টি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৫৪৩টি। এখানে দেখা যায়—বাংলাদেশের কোনো কলেজ থেকে তেমন গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে পারেনি। এখন প্রশ্ন হলো—এর দায়ভার কে বা কারা নেবে? এখানে কি শিক্ষার্থীর দোষ? নাকি গবেষণা করার জন্য সুযোগ নেই বলেই কলেজের শিক্ষার্থীরা গবেষণা করতে পারে না।
গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল, সুযোগ ও পরিবেশ প্রয়োজন। গবেষণায় উত্সাহিত করতে হলে সরকার, প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। তাহলে সব প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। গবেষণা একটি সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়া। যা সময়, সম্পদ ও সঠিক দিকনির্দেশনার দাবি করে। এজন্য একটি সুসংগঠিত গবেষণার নীতি ও কৌশল প্রণয়ন করা আবশ্যক। গবেষণার মাধ্যমে আমরা শুধু নতুন আবিষ্কারই নয়, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠন করতে পারব, যা ভবিষ্যতে আমাদের প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল পৃথিবী তৈরি করবে।
লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ
