প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ধ্বংস

গাজায় ইচ্ছাকৃত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে ইসরায়েল: জাতিসংঘের তদন্ত

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৫, ১৯:২৮

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গাজা যুদ্ধের সময় ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে নারী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ধ্বংস করে এবং যুদ্ধকৌশল হিসেবে যৌন সহিংসতা ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) জেনেভা-ভিত্তিক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন একটি নতুন প্রতিবেদন বলছে, ইসরায়েল গাজার প্রধান প্রজনন কেন্দ্রে ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণ এবং ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে গর্ভাবস্থা, প্রসব এবং নবজাতকের যত্নের জন্য ওষুধ প্রবেশে বাধা দিয়েছে।

কমিশন তাদের প্রতিবেদনে দেখেছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংসের মাধ্যমে গাজার ফিলিস্তিনিদের একটি প্রজনন ক্ষমতা ধ্বংস করেছে।

এদিকে, জেনেভায় অবস্থিত ইসরায়েলের মিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, 'ইসরায়েল ভিত্তিহীন অভিযোগগুলোকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।'

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘের তদন্তের নিন্দা করে এটিকে 'অযৌক্তিক দাবিসহ মিথ্যা অভিযোগ' বলে মন্তব্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার নিজের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, 'জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল নামে পরিচিত ইসরায়েল-বিরোধী সার্কাস দীর্ঘদিন ধরেই ইহুদি-বিরোধী, দুর্নীতিগ্রস্ত, সন্ত্রাস-সমর্থক এবং অপ্রাসঙ্গিক সংস্থা হিসেবে উন্মোচিত হয়েছে।'

'ইচ্ছাকৃত হত্যার যুদ্ধাপরাধ'

জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় প্রসূতি হাসপাতাল এবং ওয়ার্ডগুলো পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আল-বাসমা আইভিএফ সেন্টার (অঞ্চলটির প্রধান ইন-ভিট্রো ফার্টিলিটি ক্লিনিক) ধ্বংস করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আল-বাসমায় ইচ্ছাকৃতভাবে গোলাবর্ষণ করা হয়, যেখানে মাসে ২০০০-৩০০০ রোগীর সেবা প্রদানকারী একটি ক্লিনিকের ৪০০০ ভ্রূণ ধ্বংস করা হয়েছিল। ভবনটি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ পায়নি কমিশন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে জন্ম রোধ করার জন্য এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়, যা একটি গণহত্যামূলক কাজ।

জাতিসংঘের মানবিক-বিষয়ক প্রাক্তন সমন্বয়কারী মার্টিন গ্রিফিথস আল জাজিরাকে বলেন, এটা ভালো যে জাতিসংঘ এখন গণহত্যা সম্পর্কে কথা বলছে। কারণ এখন পর্যন্ত তারা এই শব্দটি সম্পর্কে খুব সতর্ক ছিল।

মঙ্গলবার এবং বুধবার জেনেভায় কমিশনের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে যৌন সহিংসতার শিকার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও শোনা যায়।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সরাসরি বেসামরিক নারীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে, এটি একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা এবং ইচ্ছাকৃত হত্যার যুদ্ধাপরাধের শামিল।

কমিশন আরও জানিয়েছে, জোরপূর্বক জনসমক্ষে পোশাক পরিধান এবং নগ্নতা, ধর্ষণের হুমকিসহ যৌন হয়রানি এবং যৌন নির্যাতন - ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলি বাহিনীর 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতির' অংশ।

ইত্তেফাক/এসকে