কুরস্কে গুরুত্ত্বপূর্ণ বসতি উদ্ধার করলো রাশিয়া

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৫, ২১:৫২

ইউক্রেনীয় সেনাদের থেকে কুরস্ক অঞ্চলের সুদজা বসতি উদ্ধার করেছে রাশিয়ান সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়। এর ফলে ভবিষ্যৎ শান্তিচুক্তি আলোচনায় ভূমি নিয়ে দর-কষাকষিতে ইউক্রেন পিছিয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।

রুশ ভূখণ্ড কুরুস্ক থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের বের করে দিতে সম্প্রতি রাশিয়া অভিযান জোরালো করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দেশটির সেনারা সুদজার পাশাপাশি মেলোভয় ও পোডল নামে আরও দুটি বসতি উদ্ধার করতে সক্ষম হলো।

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থা ইন্সিটিউট ফর দা স্টাডি অফ ওয়ার (আইএসডব্লিও) জানিয়েছে, সুদজা থেকে পাওয়া ভিডিও দেখে অনুমান করা হচ্ছে, শহরটি রাশিয়ান সেনারা দখলে নিয়েছে। এরপর তারা আরও দক্ষিণে অগ্রসর হচ্ছে।

ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার কুরস্ক প্রদেশের ছোট শহর সুদজা। কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আগে সেখানে প্রায় ৫ হাজার লোক বসবাস করতো। এলাকাটি রুশ সেনাদের পূর্ণদখলে যাওয়ায় এটিকে রাশিয়ার 'প্রতীকী বিজয়' হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুদ্ধক্ষেত্রের এ খবর এমন একসময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি বিষয়ে আলোচনা করতে আজ বৃহস্পতিবার মস্কো পৌঁছেছেন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া প্রত্যাশা করছে আমেরিকান প্রতিনিধি মস্কোকে ইউক্রেনের ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে অবহিত করবে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাব ইউক্রেন ইতোমধ্যে মেনে নিয়েছে।

নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে পেসকভ আশা করেন, খুব দ্রুত ইউক্রেনীয় সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কুরস্কের বাকি এলাকাও দখলমুক্ত হবে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব সেনা ও সাধারণ নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে ইউক্রেনের সেনাদের কুরস্ক থেকে বের করে দেওয়া হবে।

গতকাল বুধবার প্রেসিডেন্ট পুতিন আকস্মিক সফরে কুরস্কে যান। এ সময় তিনি সামরিক পোশাক পরিহিত ছিলেন। এমন একটি ভিডিও দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। এ সময় রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যদের দ্রুত এ এলাকা মুক্ত করার নির্দেশ দেন। 

এছাড়া সেখানে পুতিনের সফর সৈনিকদের মনোবল বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন অবশিষ্ট ইউক্রেনীয় সেনাদের বিতাড়িত করার পর সীমান্তে বাফার জোন প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেন। তিনি আরও বলেন, কুরস্কে বন্দি ইউক্রেনীয় সেনাদের সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম কোনো বিদেশি শক্তি হিসেবে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে রুশ ভূখণ্ডের শহর দখলে নেয় ইউক্রেন। গত আগস্টে চলা অভিযানের সময় ইউক্রেন প্রচার করে, তারা রাশিয়াকে পূর্ব সীমান্ত থেকে সেনা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে এবং ভূমি বিনিময়ে দরকষাকষি করতে এ অভিযান চালাচ্ছে। রাশিয়ার ভূখণ্ড দখলে রাখা তাদের উদ্দেশ্য নয়।

কিন্তু রাশিয়ান সেনারা দ্রুত কিয়েভের অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে দেয়। এরপর ইউক্রেনের দখলে যাওয়া অঞ্চল উদ্ধারে নামে রুশ বাহিনী।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে সামরিক ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করলে এবং সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়া কুরস্কে আক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি করে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ানরা আমাদের সেনাদের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় জীবন বাঁচাতে সেনা কমান্ড যা করার তাই করছে।

ইত্তেফাক/এসকে