সরকারি খালে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৫, ০৯:৩০

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধামশুর গ্রাম দিয়ে উজানের পাঁচ গ্রামের পানি নিষ্কাশনের সিংড়া বিলের শতবর্ষী খালটি মাটি ফেলে ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সানির মোড় থেকে মামারিশপুর সড়কের সিংড়া খালের ওপর আনুমানিক ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের পাকা সেতুটি গুরুত্বহীন হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে উজানের শত শত ধানিজমি অনাবাদির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধামণ্ডর সিংড়া ব্রিজের উত্তরে বিলের মধ্যখানে ড্রামট্রাক দিয়ে মাটি ফেলে ভরাট কাজ চলছে। কয়েক বছর আগেও শুকনো মৌসুমে এখানে দিগন্তজোড়া বোরো ধানের খেত ছিল। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বোরো ধান ঘরে তোলার পর বর্ষায় পানিতে ভরে সিংড়া বিলের চারপাশ প্রকৃতির রূপরসে পরিপূর্ণ হয়ে থাকত।

ধামশুর গ্রামের আহেদ আলী সেখ জানান, খাল ভরাট করায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ভারী বৃষ্টি হলে তার ১৫ কাঠা জমির বোরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়বে। এতে ধান ঘরে তোলা নিয়ে আশঙ্কায় আছি।

একই গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া (৬০) জানান, উজানের হাজিরবাজার, মামারিশপুর, ধামশুর ও গাদুমিয়া এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের বর্ষার পানি সিংড়া ব্রিজের নিচ দিয়ে সিংড়া খাল হয়ে ভালুকার খিরু নদীতে নামায় জলাবদ্ধতা থেকে কৃষকের বোরো ধান রক্ষা পেত। বর্তমানে সিংড়া বিলের সরকারি খাল ও হালটের জমি ভরাটের কারণে উজানের প্রায় শতাধিক কৃষকের বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়বে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ভালুকা আঞ্চলিক শাখার সদস্যসচিব কামরুল হাসান পাঠান কামাল জানান, গত কয়েক বছরে ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাল-বিলসহ অনেক জলাশয় ভরাট হয়েছে। এখনো অব্যাহত আছে। ধামশুর গ্রামে সিংড়া বিলের সিংড়া খালটি ঐ এলাকার পানিপ্রবাহের একমাত্র গতিপথ। দীর্ঘদিন যাবৎ সিংড়া বিলের খালসহ বিলের ফসলি জমি ভরাট কার্যক্রম চলছে। এটি রোধ করা প্রয়োজন।

ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান আব্দুল্ল্যাহ আল মাহমুদ জানান, খোঁজ নিয়ে দখলকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসএএস