কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার গহীন পাহাড়ে রক্তবমির কারণে একটি বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বিকালে উখিয়ার সদর বিটের জোমছড়ার গহীন পাহাড় থেকে হাতিটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে বন বিভাগ।
কক্সবাজারের দক্ষিণ সহকারী বন বিভাগের কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মনিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শারীরিকভাবে অসুস্থতার কারণে ৪০ বছর বয়সী এশিয়ান জাতের পুরুষ বন্য হাতিটির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাতিটি রক্তবমি করছিল। অন্তত দেড় কিলোমিটার ধরে পাহাড়ি রাস্তায় বমির চিহ্ন দেখা গেছে। বমির কারণেই হাতিটির মৃত্যু হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার দিকে হাতিটাকে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। এছাড়া মৃত হাতির সুরতহালের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে হাতির মৃত্যুর মূল কারণ জানা যাবে।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, গত আট বছর আগে উখিয়া ও টেকনাফের সাত হাজার একরের বেশি বনাঞ্চল ও পাহাড় ধ্বংস করা হয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়শিবির তৈরির জন্যে। বর্তমানে এই দুই উপজেলার ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি। এই আশ্রয়শিবির গড়ে তোলার জন্যে ৫০টির বেশি এশিয়ান জাতের বন্য হাতির খাবার সংকটে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাতি চলাচলের সাতটির বেশি করিডর দখল হয়ে যাওয়ায় টেকনাফের বনাঞ্চলের হাতিরা উখিয়া-রামু এবং রামু ও উখিয়া বনাঞ্চলের হাতিরা টেকনাফের দিকে যেতে পারছে না। এছাড়াও, পাহাড়ি ছড়া, জলাশয় ভরাট হওয়ায় কারণে হাতিদের খাবার পানির সংকটও দেখা গেছে। এই সকল হাতি রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। মা হাতির প্রসবের সময় মৃত্যু ঘটনাও ঘটছে। এই নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
