জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সহস্রাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৯, ২১:১৫

জামালপুরে বন্যার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নবকুমার চৌধুরী এবং পানি মাপক গেজ পাঠক আব্দুল মান্নান এ তথ্য জানিয়েছেন।
 
অপর দিকে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বন্যার কারণে জামালপুর-সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব প্রায় ৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরিষাবাড়ী পোস্ট অফিস এলাকসহ বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এর আগে জামালপুর দেওয়ানগঞ্জ সেকশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। জামালপুর রেল স্টেশন মাস্টার শাহাবুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


 
জেলায় বন্ধ রয়েছে এক হাজার ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জেলা প্রাথমিক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জামালপুর জেলায় নার্সারি-কেজি ওয়ান থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা মোট এক হাজার ১৫৯টি। তার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্যা কবলিত হয়ে বন্ধ রয়েছে ৭০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ৬৬৯টি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বন্ধ রয়েছে ৩১০টি।
 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, জামালপুরের ৭টি উপজেলার ৫৯টি ইউনিয়ন এবং ৭টি পৌরসভা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় প্রায় ৯০ হাজার পরিবারের ৫ লক্ষাধিক  মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। এ পর্যন্ত জামালপুর বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ হিসেবে সরকারী বরাদ্দের ৮৫০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ১৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। 

ইত্তেফাক/অনি