কেরানীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৫, ০৫:০০

ঢাকার কেরানীগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও এক জন। নিহত ব্যবসায়ী শুভাঢ্যা উত্তর পাড়ার মসজিদ পাড় এলাকার মৃত মীর হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. জুবায়ের হোসেন (৩৬)। তিনি মেসার্স আবু বকর সিদ্দীক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক।

শনিবার দুপুর দেড়টায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের উত্তর পাড়া গোলামবাজার সড়কে জুললুল সুপার মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর সোয়া ১টার দিকে গোলামবাজার সড়কে জুললুল মার্কেটে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন জুবায়ের। দুপুর সোয়া ১টার দিকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোবহান ঢালীর নেতৃত্বে আমির হোসেন, সবুজ মিয়া, পলাশ ওরফে কাইল্যার পোলা, সাকিব, জাবেদ মিয়া ও রহিম হোসেনসহ অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী ঐ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে
জুবায়েরের ওপর হামলা করে। এ সময় তিনি দৌড়ে গোলামবাজারের দিকে পালানোর চেষ্টা করেন। সে সময় সন্ত্রাসীরা তাড়া করে জুবায়েরকে ধরে ফেলে। একপর্যায়ে তাকে পেছন থেকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে সন্ত্রাসীরা। এ সময় জুবায়ের ঐ এলাকার মরিয়মের চায়ের দোকানে ঢুকে প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানায়। তখন সন্ত্রাসীরা তাকে সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে দোকানের বাইরে এনে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এরপর তাকে মাথা, বুকের ডান পাশ ও পিঠের বাম পাশে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সন্ত্রাসীরা তখন জুবায়েরের সঙ্গে থাকা বাবু নামের এক যুবককেও কুপিয়ে ও গুলি করে গুরুতর আহত করে। এরপর সন্ত্রাসীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জুবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বাবু খান (২৮) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চা-দোকানি মরিয়ম বেগম বলেন, জুবায়ের জমি বেচাকেনার ব্যবসা করত। কয়েক দিন আগে সে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশে একটি জমি বিক্রি করে। গতকাল সকালে ঐ জমিতে সীমানা দেওয়াল স্থাপন করে আসার পর এ ঘটনাটি ঘটে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় প্রাণে বাঁচার জন্য জুবায়ের দৌড়ে আমার দোকানে প্রবেশ করে। তখন সে বাঁচার জন্য আমাকে জাপটে ধরে। আমি তাকে বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা আমার গলায় ছুরি ধরে জুবায়েরকে টেনেহেঁচড়ে নিয়ে যায়। এরপর সড়কে জুবায়েরের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোলামবাজার বড় মসজিদ এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, নিহত জুবায়ের নির্মাণসামগ্রী ব্যবসার পাশাপাশি জমির বেচাকেনার ব্যবসাও করতেন। আওয়ামী লীগের আমলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা তাঁতীলীগের সভাপতি ওমর ফারুক ঢালী ওরফে মোল্লা ফারুক শুভাঢ্যা গোলামবাজার এলাকার একটি জমি দখল করেন। ঐ জমির মালিকানা নিয়ে মোল্লা ফারুকের সঙ্গে ঐ এলাকার বাসিন্দা সেন্টু মিয়ার বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি ঐ জমি দেখভাল করার জন্য সেন্টু জুবায়েরকে দায়িত্ব দেন। এতে জুবায়েরের ওপর ক্ষিপ্ত হন মোল্লা ফারুক।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা তাঁতীলীগের সভাপতি ওমর ফারুক ঢালী ওরফে মোল্লা ফারুকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কী কারণে এবং কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমএএম