শরীয়তপুরের ডামুড্যায় প্রকাশ্যে দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সময় তিন পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে আরও কয়েকজন।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক।
আটকরা হলেন, খুলনা জেলা পুলিশের কনস্টেবল (কং/১৭৩৩), কৌশিক আহমেদ সেতু (৩০), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল (কং/৫৮৪৭) কাউসার তালুকদার (২৯), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল রুবায়েত মীর (২৭), কুমিল্লার লাকসামের বাসিন্দা শরীফ হোসেন (৩৫)।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার দারুল আমান বাজার এলাকায় মোহাম্মদ জুয়েল সরদার (৩২) ও ফয়সাল সরদার (২৪) নামের দুই কাপড় ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ারর ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধূসর রঙের একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৯৮৫৮) এবং একটি কালো মোটরসাইকেল এসে ব্যবসায়ীদের গতিরোধ করে। এসময় আটজনের একটি দল ব্যবসায়ীদের ঘিরে ফেলে। পরে মাইক্রোবাসে ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, অপহরণকারীরা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এবং পিস্তল ঠেকিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তাদের মারধর করে লোহার রড, কিল-ঘুষি দিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। পরে মাদারীপুরের লেকপাড় এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে জুয়েলের ভাই স্বাধীন সরদারের কাছে ফোন করিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। প্রথমে ব্যাংক, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অপহরণকারীদের ৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে আরও টাকা দাবি করলে কৌশলে তাদের ডামুড্যা শহরের বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলা হয়। রাত ১টার দিকে অপহরণকারীরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ব্যবসায়ীরা চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মাইক্রোবাস থামিয়ে দেয় এবং তিনজনকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
ডামুড্যা থানার ওসি জানান হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, অপহরণের ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
