পোশাক কারাখানাগুলোর ছুটি ঘোষণা দেওয়ার পর চাপ বাড়তে শুরু করেছে গাজীপুর সড়কে। যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদযাত্রায় যানজট ও দুর্ভোগ লাঘবে পুলিশের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় নেমেছে শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৯ মার্চ) গাজীপুরের বিভিন্ন সড়কে এই চিত্র দেখা গেছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাজীপুরে গড়ে ওঠা পোশাক কারখানাগুলোর ছুটি অনেকটা একই সময়ে হওয়ার কারণে প্রতিবছর ঈদযাত্রায় ওই এলাকার সড়ক-মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি কালীগঞ্জ-টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়ক হয়ে দেশের উত্তরবঙ্গের মানুষ কিংবা গাজীপুর বা ঢাকার আশপাশের এলাকার মানুষ নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, বি-বাড়িয়া, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ বিকল্প সড়কে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চট্রগ্রাম ও কক্সবাজারগামী যানবাহন চলাচল করে। তাই ঈদ মৌসুমে ওই সড়কে সৃষ্টি হয় যানজট। এবার যানজটের দুর্ভোগ লাঘবে আগে থেকেই যৌথভাবে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কাজে যুক্ত করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার কালীগঞ্জ-টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কের কাপাসিয়া মোড়ে যানজট নিরসনে প্রশাসনের উদ্যোগে ট্রাফিক ও থানা পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরে যানজট নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা অবস্থান করছে ওই সড়কের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা কাপাসিয়ার মোড়ে। কালীগঞ্জ-টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কের কাপাসিয়ার মোড়ের দুই ধারে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থী ও তরুণরা। সবার হাতে একটা করে লাঠি ও গলায় বাঁশি। দূর থেকেই সেই লাঠি ও বাঁশি দিয়ে বাস ও অন্যান্য যানবাহন চালকদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তারা।
কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের শিক্ষার্থী ও স্কাউট লিডার নাদিম বলেন, গাজীপুর জেলা ট্রাফিক ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশের পাশাপাশি আমরা স্থানীয় শিক্ষার্থীরা সড়কে যানজট নিরসনে কাজ করছি। গত ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া দায়িত্ব চলবে ঈদের আগের দিন রাত পর্যন্ত।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তনিমা আফ্রাদ (ইউএনও) বলেন, এবারের রমজান ও ঈদে ভোগান্তি ছাড়া মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতেই শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানো হয়েছে। ঈদের আগের দিন রাত পর্যন্ত তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবে।
