বর্ণালী হত্যা: সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে শঙ্কিত নিহতের পরিবার

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯, ১৭:১৩

গৃহবধূ বর্ণালী মজুমদার (বন্যা) হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিয়ে শঙ্কিত নিহতের পরিবার। অভিযুক্তদের ক্ষমতার দাপট দেখানো ও এজাহার থেকে আসামিদের নাম বাদ দেয়াসহ বেশ কয়েকটি পুলিশি ভূমিকার কারণে বিশ্বাস রাখতে পারছেন না নিহতের বাবা-মা। 

এসবের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বর্ণালীর জন্মস্থান ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ণালীর সহপাঠী বোরহানউদ্দিন সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বোরহানউদ্দিন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়রে শিক্ষক-শিক্ষাথীরা, বোরহানউদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল সহকারে মানববন্ধনে অংশ নেন। পৌর শহরের বিভিন্ন শেণি পেশার লোক একাত্ত্বতা প্রকাশ করে ওই মানববন্ধনে অংশ নিলে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা স্থবির হয়ে পড়ে।

মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বোরহানউদ্দিন সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজের অধ্যক্ষ এস এম গজনবী, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. হারুন-অর-রশিদ, সহকারী অধ্যাপক রাখাল চন্দ্র মিস্ত্রী, বোরহানউদ্দিন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অণীল চন্দ্র দাস, বোরহানউদ্দিন উপজেলা মাধ্যামিক শিক্ষক সমিতির সম্পাদক মো. বশির উল্লাহ্, বোরহানউদ্দিন সরকারি মাধ্যামিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  শাহ্ মো. নোমান প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বর্ণালী হত্যার সুষ্ঠ তদন্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী ঢাকা ডিএমপি কমিশনার অফিসে কর্মরত এসআই দীপক ও রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আ. কুদ্দুস ফকিরের ভূমিকার নিন্দা করে বলেন, বর্ণালী হত্যার রাতেই বর্ণালীর ঘাতক মিথুন দে (রাহুল) ও তার খালাতো ভাই এস আই দীপক যাতে রামপুরায় থানায় হত্যা মামলা না হতে পারে তার ব্যবস্থা করেন । এ জন্য আগেভাগেই বর্ণালীর লাশ হাসপাতালের মর্গে ফেলে রেখে মিথুনকে থানায় নিয়ে আটকের নাটক সাজায়।

এদিকে বর্নালীর পরিবার ও স্বজনরা জানান, বর্ণালীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর স্বামী মিথুন দে রাহুল, শ্বশুর চুনি লাল দে, শাশুড়ি দিপ্তী রানী দে, দেবর প্রিতম চন্দ দে, কাজের মেয়ে ছায়া রানী দাস (টুম্পা) কে আসামী করে হত্যা মামলা দিতে গেলে রামপুরা থানার ওসি মো. কুদ্দুস ফকির বলেন, আপনারা যদি শুধু মিথুন দে রাহুল কে আসামি করে মামলা দেন তাহলে মামলা নেব। না হলে মামলা নেয়া যাবে না। পরে বাধ্য হয়ে ওসির কথামতো এজাহার পরিবর্তন করে মামলা দিতে হয়। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ।

উল্লেখ্য, গত ৫ বছর পূর্বে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বাবুল মজুমদারের মেয়ে বর্ণালী মজুমদারের সাথে পৌর ছয় নাম্বার ওয়ার্ডের চুনি লাল দে’র ছেলে মিথুন দের সাথে পারিবারিক সম্মতিতেই বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে প্রায় প্রতিনিয়ত মিথুন ও মিথুনের পরিবার বর্ণালীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতন করে কয়েকবার বাসা থেকেও বের করে দেয়। পরে বর্ণালী ঢাকায় স্বামীর বাসা থেকে চলে আসে বোরহানউদ্দিনে। বর্ণালীর স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে বোরহানউদ্দিনে আসলে বর্ণালীর স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুরী বর্ণালীর মা-বাবাকে অনুরোধ করে বর্ণালীকে অনেকটা জোর করেই ঢাকায় বনশ্রীতে স্বামীর বাসায় পাঠায়। গত ২ জুলাই রাতে বনশ্রী এ ব্লকের ২ নামা্বর রোড সংলগ্ন নিজ বাসা থেকে রাত ১১ টার দিকে অচেতন অবস্থায় বর্ণালীর স্বামী মিথুন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইত্তেফাক/এএম