ঈদ আনন্দ নেই ফরিদার সংসারে

‘সেমাই চিনি আল্লায় দিলে খাই, না হলে মুখোত চড়ে না’

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৫, ১৫:০৩

‘হামার আবার ঈদ আছে বাহে। খাবারে পাই না। সেমাই চিনি আল্লায় দিলে খাই। না হলে মুখোত চড়ে না।  বড় কষ্টে আছি । জীবন আর চলে না।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলো ফরিদা বেগম (৩৫)।

উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী গাউছিয়া বাজার এলাকার মমিনুর ইসলামের স্ত্রী ফরিদা বেগম। স্বামী মমিনুর দিনমজুর। একদিন কাজ হয়তো তিনদিন নেই। সব সময় কাজ হয়না। তাছাড়া গ্রামে লোকজনের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। ফরিদার সংসারে ২ ছেলে। মোবাশ্বের(৪) ও রহমতঊল্লাহ(২)। 

বাড়িতে নড়বড়ে ১০ হাতের একটি চালাই সম্বল। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। রান্নার কাজ করেন খোলা আকাশের নীচে। ঘরে ভাঙ্গা একটা চৌকি। তাও নড়বড়ে। ছেড়া কাঁথা-বালিশ। ঘরে মানুষ ঘোরার জায়গা পর্যন্ত নেই। 

সরেজমিনে ফরিদার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সীমাহীন কষ্ট ফরিদার। ঘরে রান্না করার মত নুন নেই, তেল নেই, নেই মরিচ। 

রাত পোহালেই ঈদ। বাচ্চাদের জন্য ঈদের নতুন জামা কিনছেন কিনা এর জবাবে ফরিদা বেগম বলেন, ‘হামরা খাবারে পাই না। জামা কোনটে পাই। সেমাই চিনি কিনছেন কিনা জবাবে বলেন, আল্লা দিলে খামো নয়তো নয়।’

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে অভাবের সংসারে দুইটি সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে চলে ওদের সংসার।

প্রতিবেশী এক নারী বলেন, দুইমাস আগে দোকান থেকে বাকিতে মাংস কিনে সেই টাকাই এখনো দেয় নাই। সে জন্য মমিনুর বাজার যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

ফরিদার পরিবার সম্পর্কে জানতে ও যোগাযোগ করতে: ০১৮৬৭২৭০৭৫১

ইত্তেফাক/এএইচপি