টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইসরায়েলি বর্বরতার মধ্যে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে গাজার ফিলিস্তিনিরা। তবে এবারের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, কারণ গত ১ মার্চ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েল খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহের পথ বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে রমজানের পুরো সময়জুড়ে অনাহারে-অর্ধাহারে রোজা পালন করতে হয়েছে ফিলিস্তিনিদের।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদের দিনও বেঁচে থাকার লড়াই করছে গাজাবাসী। বোমা হামলা থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ নিজ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে, যেখানে ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা, বেঁচে থাকাই মূল চ্যালেঞ্জ।
গাজার বাসিন্দারা বলছেন, 'এবারের ঈদ আমাদের জন্য নয়।' তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, পরিবার হারিয়েছে, পূর্বের মতো উৎসব আয়োজন সম্ভব নয়।
গাজাবাসীদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী নেতা আব্দুলমালিক বদর আল-দিন আল-হুতি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সানার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনের প্রতি ইয়েমেনি জনগণের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হামলারও প্রতিবাদ জানান, দাবি করেন—'এতে ইয়েমেনের সামরিক সক্ষমতা বা গাজার প্রতি আমাদের সমর্থন দুর্বল হবে না।'
ঈদ উদযাপনের মাঝেও ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি কারাগারে আটক থাকা স্বজনদের ভুলেনি।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের নিয়ে গঠিত 'ফিলিস্তিনি কমিশন' এবং 'ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি' এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, এবারের ঈদ এবং ভূমি দিবস এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজা ও পশ্চিমতীরে ভয়াবহ গণহত্যা চলছে। এটি আমাদের ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী সময়।
এই ঈদ আনন্দের নয়, বরং গাজাবাসীর জন্য বেঁচে থাকার আরেকটি পরীক্ষা। ইসরায়েলি আগ্রাসনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে, ক্ষুধা-যন্ত্রণা আর ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মাঝেও তারা টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
