লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর একটি ঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।
হামলার লক্ষ্য ছিল বৈরুতের দাহিয়ে এলাকা, যেখানে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণটি ছিল বেশ বড়, যা একটি ভবন ধসে পড়ার কারণ হয়েছে।
গত তিন দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় হামলা। এর আগে ২৮ মার্চ ইসরায়েল আরেকটি আবাসিক ভবনে হামলা চালায়। তখন দেশটির দাবি ছিল, ভবনটি হিজবুল্লাহর ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র। তবে তখন আগাম সতর্কতা থাকায় কেউ হতাহত হয়নি। এবার কোনো ধরনের আগাম নোটিশ দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল হিজবুল্লাহর একজন সদস্য।
তাদের দাবি, 'ওই ব্যক্তি হামাসের এক কর্মীকে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাতে সহায়তা করছিলেন। তাই এই হামলা চালানো হয়েছে।'
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
হুতি-নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, 'সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন বাহিনী উত্তরাঞ্চলীয় সাদা প্রদেশে ১৫টি বিমান হামলা চালিয়েছে।'
হামলাগুলো সাদা শহর এবং মাইজ ও সাহার জেলায় হয়েছে।
এছাড়া, সানার কাছাকাছি সানহান জেলার জারবান এলাকাতেও বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। তবে এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন বাহিনী এই হামলা চালায় হুথিদের এক সামরিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায়।
হুথিরা মধ্যাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করার পরই যুক্তরাষ্ট্র অভিযান শুরু করে।
মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গাজায় চলমান সংঘর্ষ, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈরিতা, ইয়েমেনে মার্কিন বাহিনীর হামলা। এসব কারণে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
