গাজায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের বিষয়টি অস্বীকার করে ইসরায়েল দাবি করেছিল, দীর্ঘদিন চলার মতো পর্যাপ্ত খাদ্য সেখানে রয়েছে। তবে জাতিসংঘ এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে একে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফানি ডুজারিক জানান, গাজায় ত্রাণ সহায়তা কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক সংস্থা কোগাট দাবি করেছে, হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময়ে ২৫ হাজারেরও বেশি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, যার মাধ্যমে অন্তত সাড়ে চার লাখ টন খাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে কোগাট জানায়, 'যুদ্ধ চলাকালীন যে পরিমাণ ত্রাণ গাজায় সরবরাহ করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময় তার এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হয়েছে। যদি হামাস বাধা না দেয়, তবে গাজায় দীর্ঘদিনের জন্য পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে।'
তবে ইসরায়েলের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জাতিসংঘ মুখপাত্র স্টেফানি ডুজারিক। তিনি বলেন, 'এগুলো নিছক হাস্যকর কথাবার্তা। আমাদের ত্রাণ কার্যক্রম একেবারে তলানিতে পৌঁছে গেছে। বাস্তবতা হলো, গাজায় এখন ভয়াবহ সংকট চলছে।'
তিনি আরও জানান, গাজায় জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর ২৫টি বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে। এই প্রসঙ্গে ডুজারিক বলেন, 'বেকারিগুলো খেয়ালখুশি মতো বন্ধ হয়নি! প্রয়োজনীয় ময়দা ও গ্যাসের অভাবে এগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না।'
গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, 'হামাস যতদিন পর্যন্ত সমস্ত বন্দিকে মুক্তি না দেবে, ততদিন গাজায় কোনো ত্রাণ সরবরাহ করা হবে না।'
এরপর ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করলে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় এবং পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে ওঠে।
কোগাট জাতিসংঘের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে জানায়, গাজায় যে ত্রাণ প্রবেশ করছে, তার মাত্র ৩০ শতাংশ জাতিসংঘ সরবরাহ করে। তাদের দাবি, 'জাতিসংঘের ত্রাণ তলানিতে পৌঁছালেও সমস্যা নেই। এখানে আরও আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে, যারা সহায়তা করছে।'
তবে জাতিসংঘের মতে, এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ডুজারিক বলেন, 'জাতিসংঘ ত্রাণ সরবরাহের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা ধরে রেখেছে, যার কোনো কার্যকর বিকল্প নেই।'
এদিকে, গাজার খাদ্য সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হামাসও। সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর দাবি, 'গাজায় খাদ্য সংকট এখন দুর্ভিক্ষের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আধুনিক যুগের ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয়ের জন্য একমাত্র দায়ী ইসরায়েল।'
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের অবরোধ এবং ত্রাণ সরবরাহ বন্ধের কারণে গাজায় মানবিক পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
