২০২৩ সালে মুক্তি পায় কিরণ রাও পরিচালিত বলিউডের আলোচিত সিনেমা ‘লাপাতা লেডিস’। বিয়ের পর দুই নববধূর পাল্টে যাওয়ার গল্প নিয়ে তৈরি হওয়া এই সিনেমাটির গল্প বেশ মনে ধরেছিল দর্শকদের। অস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ার পরেও সিনেমাটি শেষপর্যন্ত পুরস্কার পায়নি। তবে সে অন্য কথা।
আজকের প্রসঙ্গ কিছুটা অন্যরকম। যে সিনেমার গল্প দেখে মানুষ মুগ্ধ হয়েছিল, সেই গল্পই নাকি অন্য একটি সিনেমার নকল। খবরটি ছড়িয়ে পড়তে হুলস্থুল বেঁধে যায় নেট দুনিয়া জুড়ে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ উঠেছে, ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া আরবি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘বোরখা সিটি’র সঙ্গে লাপাতা লেডিসের গল্পের অনেকটাই মিল। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ফ্যাব্রিস ব্র্যাকের বোরখা সিটির কিছু ক্লিপস। সেই শর্টফিল্মের একাধিক দৃশ্যের সঙ্গে হুবহু মিল কিরণ রাওয়ের লাপাতা লেডিসের।
সম্প্রতি এক্সে দ্য স্কিন ডিরেক্টর নামের এক অ্যাকাউন্ট থেকে বোরখা সিটির ক্লিপস শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘কিরণ রাও পরিচালিত লাপাতা লেডিস অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল মৌলিক গল্পের সিনেমা হিসেবে। তবে এটি ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আরবি সিনেমা বোরখা সিটির রিমেক বলে মনে হচ্ছে।’
ক্যাপশনে আরও লেখা রয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ১৯ মিনিটের এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে এক নববিবাহিত পুরুষের গল্প, যে তার নববধূকে হারিয়ে ফেলে। বোরখা পরে থাকার কারণে ওই ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে আর খুঁজে পায় না। ব্যঙ্গাত্মক কমেডির মোড়কে তৈরি হওয়া এই সিনেমায় চরম পুরুষতন্ত্র, নারীর ওপর আরোপিত কিছু বিধি-নিষেধ দেখানো হয়, যার ফলে সিনেমাটি সমালোচিত হয়েছিল।’
বোরখা সিটি সিনেমার দৃশ্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই লাপাতা লেডিস নিয়ে কটাক্ষের ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর আগেও অনন্ত মহাদেবন একই অভিযোগ তুলেছিলেন। ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অনন্তের সিনেমা ‘ঘুঙ্গাট কে পট খোল’ থেকেই লাপাতা লেডিস সিনেমাটি তৈরি বলে অভিযোগ করেছিলেন অনন্ত মহাদেবন। সেই সিনেমাতেও ট্রেনে বউ বদল হয়ে যায়।
‘লাপাতা লেডিস’ সিনেমার প্রেক্ষাপট ভারতের নির্মল প্রদেশ নামের এক কাল্পনিক স্থান। ২০০১ সাল। তখনো প্রযুক্তি এতটা গ্রাস করেনি সমাজকে। সূর্যমুখী গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সদ্য বিবাহিত যুবক দীপক (স্পর্শ শ্রীবাস্তব) বউ ফুলকুমারীকে (নিতানশি গোয়েল) নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। ট্রেনের বগিতে তারা দেখতে পায় আরও দুই সদ্য বিবাহিত দম্পতিকে। রীতি অনুযায়ী, এই অঞ্চলের নারীরা লম্বা ঘোমটা পরে থাকে। বাইরের লোকের সামনে মুখ দেখায় না।
কাঙ্ক্ষিত স্টেশনে বউকে নিয়ে নামে দীপক। কিন্তু বাড়ি ফিরে দেখে, এ তার বউ ফুলকুমারী নয়। ঘোমটায় মুখ ঢাকা থাকায় ভুলবশত আরেক নতুন বউ জয়াকে (প্রতিভা রত্না) নিয়ে এসেছে দীপক। বউ হারানোর এ ক্রাইসিসে ভর করে বাকি গল্পের জার্নি। ২০২৪ সালের ১ মার্চ হলে মুক্তি পেয়েছিল লাপাতা লেডিস। ওই বছর ২৬ এপ্রিল নেটফ্লিক্সে আসার পর আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে সিনেমাটি।
