নওগাঁর রাণীনগরের সরু রেলগেইট ও রেলস্টেশন মোড় এলাকায় প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে ভোগান্তি পোহাতে হয় উত্তরবঙ্গের ১০ জেলারও বেশি যাত্রীদের।
জানা যায়, নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক ও রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ সড়ক প্রশস্ত হওয়ায় যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ফলে উত্তরবঙ্গের নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারীসহ বগুড়ার কিছু এলাকার মানুষ নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক ব্যবহার করে ঢাকায় চলাচল করে। এতে প্রতিদিন হাজারো যাত্রীবাহী ও মালবাহী গাড়ি রাণীনগরের সরু রেলগেইট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় যাত্রীদের।
রফিকুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, জরুরি কাজে উপজেলা সদর কিংবা হাসপাতালে যাওয়ার সময় যানজটে পড়তে হয়। এমনকি অনেক রোগী সময় মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় মৃত্যুবরণও করেছেন।
অটোভ্যান চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, রেলগেইট আমাদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময় গেট বন্ধ থাকলে দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি রেলগেইট সরু হওয়ায় সাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকদের পারাপারও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
গণমাধ্যমকর্মী মামুনুর রশিদ বলেন, সড়ক আধুনিকায়নে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও সরু রেলগেইটের কারণে সেই উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে না মানুষ। এছাড়া মোড়ের চারপাশে দোকান থাকার কারণে একে অপরকে দেখতে না পাওয়াই মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনাও ঘটে।
রাণীনগর রেলস্টেশনের সহকারী মাস্টার আতিকুল ইসলাম জানান, ‘দিন ও রাতে ৩০টির বেশি ট্রেন চলাচল করে। ট্রেন চলাচলের সময় গেইট বন্ধ রাখতে হয়, ফলে যানজট তৈরি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সান্তাহার রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান বলেন, রাণীনগর রেলগেইটসহ কয়েকটি রেলগেইট আধুনিকায়নের জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে যানজট সৃষ্টি হয়। দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে রেল বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
নওগাঁ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল হক রাসেল বলেন, এই দুটি মোড় প্রশস্ত করা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন রেল বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে জায়গা হস্তান্তর করলে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
