গাজার তীব্র হয়েছে ইসরায়েলি হামলা, রাতভর ৫০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১৯:১৫

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় রাতভর ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৫৫ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা গাজার বিশাল এলাকা দখল করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে একটি নতুন নিরাপত্তা করিডোর স্থাপনের কথা বলার একদিন পর।

আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, গাজার দক্ষিণ অংশে অবস্থিত খান ইউনিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৪ জনের মৃতদেহ নাসের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে - তাদের মধ্যে ৯ জন একই পরিবারের। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু এবং ৪ জন নারী রয়েছে।

আরও ১৯ জনের মৃতদেহ খান ইউনিসের কাছে ইউরোপীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ১ থেকে ৭ বছর বয়সী পাঁচজন শিশু এবং একজন গর্ভবতী নারী রয়েছে।

এছাড়া গাজা শহরের আহলি হাসপাতালে ২১ জনের মৃতদেহ নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যেও ৭ জন শিশু রয়েছে।

এই হত্যাযজ্ঞের মাঝেই গাজাজুড়ে আক্রমণ আরও তীব্র করার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। খাদ্য, জ্বালানি এবং মানবিক সাহায্যের সমস্ত আমদানি এক মাসব্যাপী বন্ধ ঘোষণা করেছে ইহুদিবাদি সরকার। এর ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেসামরিক নাগরিকরা তীব্র সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে।

এরই মাঝে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের (শুজাইয়া, জাদিদা, তুর্কোমেন এবং পূর্ব জেইতুন) সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তারা হুমকি দিয়ে বলেছে, সেনাবাহিনী 'আপনার এলাকায় চরম শক্তি প্রয়োগ করবে।' আরও বলা হয়েছে, গাজা শহরের পশ্চিমে আশ্রয়কেন্দ্রে লোকদের সরিয়ে নেওয়া উচিত।

গতকাল বুধবার বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন, হামাসকে চাপ দেওয়ার জন্য ইসরায়েল গাজা উপত্যকাজুড়ে একটি নতুন নিরাপত্তা করিডোর স্থাপন করছে। দক্ষিণ শহর রাফাহকে ফিলিস্তিনের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে (যা ইসরায়েল খালি করার নির্দেশ দিয়েছে)।

এদিকে, ইসরায়েলের গণহত্যামূলক তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগত বেসামরিক নারী ও শিশু। যুদ্ধের ফলে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অন্তত প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসকে