বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কার্যত প্রায় সব দেশের ওপর আরোপ করা এই শুল্ক বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘোষণাকে অনেকে ট্রেড ওয়ার বা শুল্ক যুদ্ধের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্ক ঘোষণার সময়ে ওয়াশিংটন সফরে গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অর্থনৈতিক দূত কিরিল দিমিত্রিভ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির পর দিমিত্রিভ হলেন সর্বোচ্চ পদস্থ রুশ কর্মকর্তা, যিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন।
রুশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্রেমলিন এবং হোয়াইট হাউসের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য চলমান প্রচেষ্টার মধ্যে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের পূর্ববর্তী প্রতিবেদন অনুসারে, পুতিনের বিশেষ অর্থনৈতিক প্রতিনিধির ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। উইটকফ রাশিয়ার সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের যোগাযোগ তদারক করেন।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) টেলিগ্রামে এক পোস্টে দিমিত্রিভ নিশ্চিত করেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে তিনি বুধবার এবং বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠক করছেন। আলোচনা শেষ হওয়ার পরে তিনি আরও মন্তব্য করবেন।
তিনি বলেছেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ সমগ্র বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জো বাইডেনের পূর্ববর্তী প্রশাসনের অধীনে এটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।
রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান দিমিত্রিভ জোর দিয়ে বলেন, সম্পর্ক স্থাপনের বিরোধীরা ভীত যে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র অভিন্ন ভিত্তি খুঁজে পাবে, একে অপরকে আরও ভালভাবে বুঝতে শুরু করবে এবং আন্তর্জাতিক বিষয় এবং অর্থনীতি উভয় ক্ষেত্রেই সহযোগিতা গড়ে তুলবে।
গত মাসে সৌদি আরবে রাশিয়া-মার্কিন আলোচনায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে দিমিত্রিভও ছিলেন, যেখানে উভয় পক্ষই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপর থেকে মস্কো এবং ওয়াশিংটন ইউক্রেন সংঘাতের সম্ভাব্য কূটনৈতিক নিষ্পত্তির জন্য কাজ করছে। একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ৩০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি এবং কৃষ্ণ সাগরে শস্য নিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে। মস্কোর জোর দিয়ে আসছে, যে কোনো মীমাংসায় অবশ্যই স্থল পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে এবং ন্যাটো সম্প্রসারণসহ সংঘাতের মূল কারণগুলো সমাধান করতে হবে।
