দীর্ঘ ছয় বছরেও চালু হয়নি রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল। দুই বছর আগে ১১তলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো চালু হয়নি নতুন ভবন। ফলে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। ৫০ শয্যার ভবনে রোগীর সংখ্যা কখনো ১৫০, আবার কখনো ছাড়িয়ে যাচ্ছে দুইশরও অধিক। দেখা দিচ্ছে শয্যাসংকট। বাধ্য হয়ে রোগীদের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত বিভাগ। সংস্থাটি বলছে, কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। স্বাস্থ্য বিভাগকে ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, শিগগির কাজ বুঝে নিয়ে নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু হবে। তবে ২৫০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এর প্রশাসনিক অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্সসহ সরঞ্জাম দ্রুত সময়ের মধ্যে না পেলে এর কোনো সুফল মিলবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান ভবনের পাশেই নির্মাণকাজ শুরু হয় ১১ তলাবিশিষ্ট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবনের। ভবনটিতে আইসিইউ, সিসিইউ, ডায়ালাইসিস সুবিধা, উন্নত ল্যাব সুবিধা ও একাধিক অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থা থাকার কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের শুরুতেই ছয় তলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষে কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও আজও শুরু হয়নি। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন এই ভবন থাকতেও বর্তমান পুরোনো ভবনে গাদাগাদি করে সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মৃদুল নন্দী বলেন, হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শওকত আকবর বলেন, জেনারেল হাসপাতাল ১০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও মূলত এটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি ভবন। যখন অতিরিক্ত রোগী চলে আসে তখন আমরা তাদের ফ্লোরে দিচ্ছি। কিন্তু অনেক সময় ফ্লোরেও জায়গা হয় না। শীতকালে আমাদের এখানে ১০০-১৫০ রোগী হয়, গরমকালে সেটি ২০০ জনে গিয়ে পৌঁছায়। আমরা অতি কষ্টে আমাদের সেবাকার্যক্রম চলমান রাখছি। আমাদের নতুন ভবনের প্রয়োজন। নাহলে রোগীদের সেবা দিতে আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে।
রাঙ্গামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্তির দিকে। সম্ভবত শিগগিরই আমরা এটি বুঝে নিতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ২৫০ শয্যার অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে আমরা ফাইল পাঠিয়েছি। শিগগিরই হয়তো আমরা অনুমোদন পেতে যাচ্ছি। অনুমোদন পেলে তখন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি আমাদের জন্য একটি যুগান্তকারী বিষয় হবে বলে আমি মনে করি।
