সরকারি অর্থায়নের খেয়ার ঘাট নিজ বাড়িতে নির্মাণের অভিযোগ, ইউপি সদস্যের পদত্যাগ দাবি

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১৮:০২

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় জেলা পরিষদের অর্থায়নের খেয়ার ঘাট নিজ বাড়িতে নির্মাণসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে রামশীল ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অবনী রায়ের পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। 
 
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) পয়সারহাট-পীড়ারবাড়ি সড়কের রাজাপুর নামক স্থানে সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এ সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়।

গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়। ছবি: ইত্তেফাক  

এ সময় ত্রিমুখী বাজার কমিটির সভাপতি কেশব তালুকদার, রামশীল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সজীব তালুকদার, পরিতোষ বৈদ্য, সজীব রায়, বানী সরকার, কমল জয়ধর, সমীর জয়ধর, প্রতীম বৈদ্য, কাজল তালুকদারসহ প্রমুখ বক্তব্য দেন। 

রামশীল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সজীব তালুকদার বলেন, আমাদের এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রামশীল-রাজাপুর খেয়াঘাটে একটি ঘাটলা নির্মাণের। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পরিষদ কর্তৃক ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একটি ঘাটলার বরাদ্দ হয়। কিন্তু ওয়ার্ডের মেম্বার অবনী রায় প্রকল্পের সভাপতি হয়ে খেয়াঘাটে ঘাটলা নির্মাণ না করে তার নিজ বাড়ির ঘাটে ঘাটলা নির্মাণ করেছেন। 

৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাজল তালুকদার বলেন, প্রতিদিন স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য তরঙ্গ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীরা এ ঘাট দিয়ে পারাপার হয়। নদীর পূর্বপাড় থেকে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার মণ ধান এই খেয়াঘাট দিয়ে পার হয়। এ খেয়াঘাটে বরাদ্দকৃত ঘাটলা নির্মাণ না করে অবনী মেম্বার তার নিজ বাড়িতে ঘাটলা নির্মাণ করছে। এছাড়াও তিনি মাতৃত্বকালীন ভাতা, বয়স্কভাতা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি। 

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য অবনী রায় বলেন, যেখানে ঘাটলা নির্মাণের কথা রয়েছে আমি সেখানেই ঘাটলা নির্মাণ করেছি। একটি পক্ষ নির্বাচনী কারণে আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। 

কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাজাপুর গ্রামে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয় জনসাধারণ। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ার পরে তারা অবরোধ তুলে নেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

ইত্তেফাক/এসএএস