নেত্রকোনার প্রধান প্রধান নদনদীতে নাব্যসংকট, খননের দাবি 

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১৯:৫৪

দীর্ঘদিন যাবৎ খনন না করায় নেত্রকোনা জেলার প্রধান প্রধান নদনদীতে নাব্যসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বছরের পর বছর ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ঢলের সঙ্গে আসা বালির কারণে অনেক নদী ভরাট হয়ে গেছে। নদীগুলো পলি পড়ে এখন অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। অনেক নদীর গতিপথ লোপ পেয়ে খালে পরিণত হওয়ায় হুমকির মুখে পড়ছে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য। পানির অভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। বিশেষ করে প্রমত্তা সোমেশ্বরী নদী এখন ধু-ধু বালুময়। নদীর ওপর মাচাং বা চাটাই দিয়ে সেতু বানিয়ে লোকজন এখন এই নদী পার হচ্ছে।

একসময় নেত্রকোনার সব নদীতে সারা বছর পানি থাকত। নৌপথে চলত ব্যবসা-বাণিজ্য। এখন আর তার কোনোটাই নেই। নদীর নাব্য হারানোর পাশাপাশি নদীতে অপরিকল্পিতভাবে সেতু নির্মাণ করায় নৌ-বাণিজ্য বলতে এখন এর কোনো কিছু নেই। নদনদীতে পানি না থাকায় বোরো মৌসুমে সেচের কাজে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া নদী ভরাট হয়ে যাওয়াতে ভারী বর্ষণের সময় প্লাবিত হচ্ছে নদীতীরবর্তী এলাকা।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলায় সাতটি বড় নদনদীসহ মোট ১২২টি ছোট-বড় নদী ও খাল ছিল। জেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া বৃহৎ সাতটি নদীর মোট দৈর্ঘ্য ৩৩৪ কিলোমিটার ও ছোট-বড় ১১৫টি নদীর দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ১২৫ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন যাবৎ এসব নদনদী খনন না করায় এবং কালের আবর্তে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানির সঙ্গে নেমে আসা বালি ও পলি পড়ে বেশির ভাগ নদনদী খালে পরিণত হয়েছে। এছাড়া অনেক নদী ও খালের অস্তিত্ব নেই। বর্তমান প্রজন্মের লোকজন অনেক নদীর নাম পর্যন্ত জানে না।

কংশ, মগড়া, সোমেশ্বরী, উব্দাখালী ও ধনু নদীর দুই পারের কৃষকরা জানান, তারা আগে নদীর পানি দিয়ে সারা বছর ঘর গৃহস্থালির কাজ করত। বোরো ফসলের মাঠে সেচ দেওয়ার কোনো চিন্তা করতে হতো না। কিন্তু এখন নদীগুলোতে জমিতে সেচ দেওয়ার মতোও পানি নেই।

তারা আরও জানান, এলাকার জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় তারা তা করতে পারছেন না। নদী শুকিয়ে যাওয়াতে এখন সেখানে ধান লাগানো হচ্ছে।

নেত্রকোনার পরিবেশবিদ অহিদুর রহমান বলেন, নদী রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন প্রধান প্রধান নদী দ্রুত খনন করা। নদীর উৎসমুখগুলো খনন করলে সুফল পাওয়া যাবে এবং সারা বছর নদীতে পানি থাকবে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার জাহান জানান, সোমেশ্বরী নদী খননের কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। তবে নদীটি জরুরি ভিত্তিতে খনন প্রয়োজন। 

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস বলেন, নদীর নাব্য রক্ষা ও সারা বছর সেচের পানি ধরে রাখার লক্ষ্যে যেসব নদনদী খননের প্রয়োজন, সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন কাজ করা হবে। ইতিমধ্যে জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নদনদীতে আর যাতে কেউ দখল করতে না পারে এবং অপরিকল্পিতভাবে যেন কোনো সেতু নির্মাণ না করা হয়ে সেদিকও দেখা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসএএস