ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হামলাকারীকে হত্যা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১১:০৮

রাজশাহীর বাগমারায় চায়ের দোকানে ঢুকে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ‘গণপিটুনিতে’ ওই হামলাকারীর মৃত্যু হয়েছে। গণপিটুনিতে বাধা দেওয়ায় পুলিশের ওপর চড়াও হয় বিক্ষুব্ধরা, তাদের হামলায় পুলিশের উপপরিদর্শকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ঝিকড়ার রনশিবাড়ি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

বাগমারার সীমান্তবর্তী নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গোয়ালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন রাজ্জাক। পিটুনিতে নিহত তরুণ একই গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম (২২)।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে রাজ্জাক রনশিবাড়ি বাজারের নজরুলের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে একই গ্রামের আমিনুল দোকানের ভেতরে ঢুকে রাজ্জাককে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করেন। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ভুক্তভোগীর মৃত্যু নিশ্চিত করে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন আমিনুল। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে আমিনুলকে আটক করে। এসময় পুলিশের ওপর চড়াও হয় বিক্ষুব্ধরা, পুলিশের হাত থেকে আমিনুলকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ওই এলাকার একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন আমিনুল। ক্ষুব্ধ লোকজন বাড়িটি ঘেরাও করে রাখেন। অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দিয়ে পুলিশকে চলে যেতে বলেন।

এক পর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ক্ষুব্ধ লোকজন বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। বাধা দিলে উপপরিদর্শক সাদিকুল ইসলামসহ পুলিশের ছয় সদস্যকে মারধর করে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর বাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে এসে মারধর করতে থাকে। গণপিটুনিতে আমিনুলের মৃত্যু হয়।

বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, আমিনুল ইসলাম বখাটে ও মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। আমিনুল ও রাজ্জাকের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। তবে চার দিন আগে এক নারীকে মারধর করেন আমিনুল। আত্রাই থানায় এ নিয়ে ডায়েরি করা হয়। ওই জিডির নেপথ্যে নিহত রাজ্জাকের হাত রয়েছে বলে আমিনুল সন্দেহ করেন। মূলত এ ঘটনা জের ধরেই আমিনুল ছুরিকাঘাতে রাজ্জাককে হত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা সদস্যদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এনটিএম/এপি