জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ৭ জন নৈশপ্রহরীকে বেঁধে চার দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার মোহনপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে ২০-২৫ জনের ডাকাত দল দোকানের তালা কেটে মিনি ট্রাকে করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকেরা হলেন—বিএডিসি অনুমোদিত বীজ ডিলার মেসার্স পাপড়ি ট্রেডার্সের মো. মেহেদী হাসান, মেসার্স স্বাদ ট্রেডার্সের সানাউল ইসলাম, মেসার্স জহুরা ইলেকট্রনিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যারের ফজলুর রহমান ও মুদি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহনপুর বাজারে প্রতিদিন রাতে ৮ জন নৈশপ্রহরী পাহারা দেন। শুক্রবার রাতে একজন না আসায় সাতজন নৈশপ্রহরী ডিউটি করছিলেন। রাত ৩টার দিকে নৈশপ্রহরী রফিকুল ইসলাম প্রথমে কালো মুখোশ পড়া চারজন ব্যক্তিকে বাজারের সড়কে ঘোরাঘুরি করতে দেখে বাঁশি বাজান। মুখোশপরা ওই চার ব্যক্তি এসে রফিকুলের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তার মাথা দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। ডাকাতেরা তার হাত-পা বেঁধে একটি দোকানের পাশে ফেলে রাখেন। এরপর ২০-২৫ জনের মুখোশ পড়া ডাকাত দল বাজারে অন্য ছয়জন নৈশপ্রহরীকে ধরে এনে মারধরের পর তাদের হাত-পা বেঁধে একই জায়গায় ফেলে রাখেন।
নৈশপ্রহরী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমিসহ আরও ছয় জন বাজারে ডিউটি করছিলাম। প্রথমে একটি মিনি ট্রাক বাজারে থেমেই আমাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে, এতে আমার মাথা ফেটে যায়। এরপর আমি চিৎকার দিতেই তারা অস্ত্রের মুখে আমার হাত-পাঁ বেঁধে ফেলেন। একই সঙ্গে তারা বাকি ছয়জনকে বেঁধে বাজারের মধ্যে একটি দোকার ঘরে আমাদের সবাইকে আটকে রেখে দোকানের মালামাল লুট করে। শেষে যাওয়ার সময় আমাদের মধ্যে রফিকুল নামে একজনের হাতের বাঁধন খুলে দেয়। এরপর আমরা দোকান মালিকদের খবর দিই।
মেসার্স স্বাদ ট্রেডার্সের মালিক সানাউল ইসলাম বলেন, ডাকাত দলের সদস্যরা আমার কীটনাশকের দোকানের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে প্রথমে সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। তারা আমার দোকানের প্রায় সাত লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদ বলেন, ঘটনাটি শোনার পর আমি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে থানায় এসে ঘটনাটি পুলিশকে জানিয়েছি।
আক্কেলপুর থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
