সাভারে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, বাড়ছে দুর্ভোগ

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৫, ২০:২৭

সাভার পৌরসভা এবং উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বর্ষা মৌসুম এলেই সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার, সব জায়গায়ই সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম বন্যা। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকে, কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয়রা পড়ছেন প্রচণ্ড ভোগান্তিতে। স্থানীয়রা পড়ছেন প্রচণ্ড ভোগান্তিতে।

বিগত কয়েক বছর ধরেই বর্ষা মৌসুম এলেই সাভারবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সাভার পৌরসভার ব্যাংক কলোনি, আড়াপাড়া, বক্তারপুর, মধ্যপাড়া, ইমান্দিপুর, সোবহানবাগ, রাজাশন, গেন্ডা, কাতলাপুর, হেমায়েতপুরের হরিনধরা এলাকা এবং আশপাশের মহল্লাগুলোর বাসিন্দারা জানান, একটু বৃষ্টি হলেই তাদের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। বাজার থেকে স্কুল, অফিস-সব জায়গায় যাতায়াতে সমস্যা হয়।

একসময় সাভারের দক্ষিণ পাশ দিয়ে প্রবাহিত বংশী নদী ও এর শাখা-প্রশাখা দিয়ে পানি এবং ময়লা নিষ্কাশন হতো। কিন্তু এখন খাল-বিল ও নালা-নর্দমা দখল করে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও শিল্পকারখানা। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক পানি প্রবাহের পথ। পৌর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনাহীন ড্রেন নির্মাণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে ড্রেনগুলো এখন আবর্জনায় ভর্তি, যেগুলো সামান্য বৃষ্টিতেই উপচে উঠে রাস্তায় এসে পড়ছে।

পৌর এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের কোনো সুসংগঠিত ব্যবস্থা ছাড়াই ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এসব ড্রেনের ময়লা রাস্তায় উঠে পড়ে এবং পরিবেশ দুর্গন্ধে ভরে যায়।’ 

জলাবদ্ধতার কারণে শুধু দুর্ভোগ নয়, ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও। গত বুধবার রাতে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা খোলা ড্রেনে পড়ে যাত্রীবাহী লেগুনার দুই যাত্রী নিহত হন। নিহতরা হলেন—এনভায় গার্মেন্টসের সুপারভাইজার মো. বদরুল আলম গাজী (হাবিব) এবং ইউনিমাস ক্যাপ ফ্যাক্টরির সিনিয়র অপারেটর মো. হৃদয় মিয়া। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত তিন জন। 

বর্ষা এলে সবচেয়ে বেশি ভোগে পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মহল্লার স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। সকালে ভিজে কাদাপানির মধ্যেই তাদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অভিভাবকরা বলছেন, বাচ্চাদের নিয়ে প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হয়। কখনো হাঁটুপানি, কখনো ময়লা পানিতে পড়ে যাওয়ার ভয়।

সাভার পৌরবাসীর দাবি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও তা ময়লা জমে নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অল্প বৃষ্টি হলেই ড্রেন উপচিয়ে রাস্তা পানিতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সুষ্ঠু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উদ্যোগ নিতে হবে। এলাকাবাসী বলেন, প্রতি বছর এই দুর্ভোগ হচ্ছে। অথচ কেউ স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসে না। তাদের দাবি, দখলকৃত নদী-খালগুলো উদ্ধার করা হোক এবং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।

ইত্তেফাক/এসএএস