গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলের ৬ টি ইউনিয়ন সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আশংকাজনক হারে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে গেছে। এতে নলকূপ ও চাপকল সহ বসতবাড়ির পাম্পে পানি না ওঠায় দুর্ভোগে পরেছে স্থানীয়রা। বর্তমানে পান যোগ্য পানির অভাবে নানামুখী সংকটে পরেছে সাধারণ মানুষ।
উপজেলার সাপমারা, গুমানীগঞ্জ, রাজাহার, শাখাহার, কামদিয়া, কাটাবাড়ী ইউনিয়ন সহ উপজেলার অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় প্রকট হয়েছে সুপেয় পানি সংকট। এমনকি অগভীর সেচ মেশিনে পানি উঠছে না। সাপমারা ইউনিয়নের চক রহিমাপুর, রামপুরা,সাহেবগঞ্জ, মেরী, মাদারপুর, কাটাবাড়ি ইউনিয়নের পলুপাড়া, কলোনি, ভেলামারী, কৌচা,দক্ষিণ আশকুরসহ আশপাশের বেশকিছু ইউনিয়নে প্রায় একই অবস্থা।
পানযোগ্য পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় চরম দুর্ভোগে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী। বাধ্য হয়ে অনেকেই খাওয়ার পানির অভাব পূরণে মাটির আরও গভীরে পাইপ বসিয়ে সাব মারসিবাল পাম্পের সাহায্যে পানি উত্তোলন করছে। কিন্তু গরীব ও অভাবী মানুষ এই মেশিন বসাতে আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় তারা প্রতিবেশীর বাড়িতে ধর্না দিয়ে পানি সংগ্রহ করছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশীর বিরক্ত এরাতে একেকদিন একেক বাড়ি থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এজন্য তাদের নানা ধরণের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।
চকরহিমাপুর গ্রামের রাবেয়া বেগম বলেন, এই এলাকার বেশির ভাগ বাসাবাড়ির টিউবয়েলে ও চাপকল গুলোতে পানি উঠছেনা। সুপেয় পানির অভাবে প্রতিদিনকার গৃহস্থালি কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়ির পাম্পে পানি না ওঠায় বাধ্য হয়ে অনেকেই নতুন করে পানির জন্য একাধিক বোডিং করে সাবমারসিবল স্থাপন করা হয়েছে। তারপরের বিভিন্ন কারণে পানির সংকটে চরম কষ্টে দিন কাটছে ভূমিহীন দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের পরিবার গুলোর।
তবে পানির অভাব পূরণে সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বরেন্দ্র অঞ্চলসহ উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে ১৮ টি কমিউনিটি ভিত্তিতে পানি সরবরাহ ইউনিট প্রকল্প চালু করে। ইউনিয়ন ভিত্তিক একটি প্রকল্পে ১০টি করে পরিবার সুপেয় পানির সুবিধা পাওয়ায় খুশি উপকার ভোগীরা। এমন প্রকল্প পানি সংকট পূরণে আশার আলো জাগালেও তার অজ্ঞাত কারণে বন্ধ রয়েছে। বরেন্দ্র এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ সুপেয় পানি সংকট নিরসনে জনস্বার্থে ইউনিয়ন গুলিতে এধরণের প্রকল্প আরও গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের।
পনির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে গোবিন্দগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাআলী জানান, আগে যেখানে ৩০ থেকে ৩৫ ফিট গভীরতায় বডিং করে পানি পাওয়া যেতো, এখন সেখানে পানি পেতে ৭০ থেকে ৮০ ফিট ভূগর্ভে যেতে হচ্ছে। স্বল্প আয়ের পরিবাদের সুপেয় পানি পেতে প্রকল্পের মাধ্যমে টিউবওয়েল স্থাপনসহ নানা প্রকল্প চলমান আছে। এছাড়াও উপজেলায় ১৮টি কমিউনিটি ভিত্তিতে পানি সরবরাহ ইউনিট প্রকল্পের আওতায় দশ পরিবারে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এধরনের প্রকল্পের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে প্রকল্পটি বন্ধ আছে বলে জানান তিনি।
পানি সংকট আরও প্রকট হওয়ার আগেই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং জনস্বার্থে কমিউনিটি ভিত্তিতে পানি সরবরাহ ইউনিট প্রকল্পটি পুনরায় চালু করবে এমনটি প্রত্যাশা এলাকাবাসী।
