আসিয়ানের যুদ্ধবিরতি আহ্বান অমান্য করে মিয়ানমার জান্তার বিমান হামলা

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৫, ১৬:০৩

আসিয়ানের সভাপতি মালয়েশিয়ার যুদ্ধবিরতি আহ্বান জানানোর পরপরই মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরাবিতি জানিয়েছে, প্রতিরোধ-অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অনেক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ব্যাংককে আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংকে ভূমিকম্প-পরবর্তী যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

পাইন ও লুইন ডিস্ট্রিক্ট পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) জানিয়েছে, গত শুক্রবার সকালে মেইকটিলা বিমানঘাঁটি থেকে একটি জান্তা যুদ্ধবিমান মান্দালয় অঞ্চলের থাবেইক্কিন টাউনশিপের লেক কিয়া গ্রামে ৩০০ পাউন্ড ওজনের একটি বোমা ফেলে। এতে ১৩ জন বেসামরিক লোক নিহত এবং আরও তিন জন আহত হয়।

মান্দালয় অঞ্চলে বিমান হামলার পর একটি ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত

একই দিন বিকেলে আরেকটি বিমান হামলা শহরের ইয়ে হটওয়াত গ্রামকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। তবে জানা গেছে, এতে কেবল বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

থাবেইক্কিন অঞ্চলের 'পিডিএফ' জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে গ্রামে আবারও আক্রমণ চালানো হয়, যেখানে শিশুসহ আরও ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়। গ্রুপের ছবিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিহত এবং একটি শিরচ্ছেদ করা মৃতদেহ দেখা যায়।

ইরাবতির প্রতিবেদন অনুসারে, বিমান হামলায় গ্রামের পেট্রোল পাম্পটি উড়িয়ে দেওয়া হয়, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পিডিএফ জানিয়েছে, মেইকটিলা বিমানঘাঁটি থেকে একটি যুদ্ধবিমান শুক্রবার বিকেলে মান্দালয় অঞ্চলের পিডিএফ-নিয়ন্ত্রিত সিঙ্গু টাউনশিপের কি তাউক পাউক গ্রামের স্কুলে ৫০০ পাউন্ড ওজনের একটি বোমা ফেলে। এই হামলায় চার জন বেসামরিক লোক আহত হয় এবং স্কুল ভবন ধ্বংস হয়ে যায়।

কারেন ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে একটি যুদ্ধবিমান মোন রাজ্যের কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণাধীন বেলিন টাউনশিপের মিন স গ্রামে মঠ ধ্বংস করে। এ হামলায় দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়।

শুক্রবার সকালে বাগো অঞ্চলের প্রতিরোধ-অধিষ্ঠিত নিয়াংলেবিন টাউনশিপের ইয়ে টুইন কোন গ্রামে জান্তা বাহিনী বিমান হামলা এবং গোলাবর্ষণ করে। এতে একজন গ্রামবাসী নিহত হয়।

রাখাইনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার সকালে রাজ্যের আরাকান আর্মি-নিন্ত্রিয়ত কিয়াউকতাও শহরে জান্তা যুদ্ধবিমান বোমা হামলা চালিয়েছে, এতে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।

এর আগে, ২৮ মার্চ ভূমিকম্পে ৩,৭০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হওয়ার পর, জান্তা সরকার ২২ এপ্রিল পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার সময় জান্তা সতর্ক করে দেয়, তারা প্রতিরোধ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে আক্রমণ করবে।

ইরাবতি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে, জান্তা ১৫টি অঞ্চল এবং রাজ্যের মধ্যে ১২টিতে ১২০টিরও বেশি কামান হামলা এবং বিমান হামলা চালিয়েছে। এর বেশিরভাগই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু। এতে কমপক্ষে ৮১ জন নিহত এবং ১২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসকে