নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে তিন ফসলি কৃষি জমির (টপসয়েল) উপরিভাগের মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। আর্থিকভাবে সাময়িক লাভবান হওয়ার আশায় অনেক কৃষক জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে উর্বরতা হারাচ্ছে কৃষিজমি।
অভিযোগ রয়েছে একদল অসাধু মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের নানা ভয়ভীতি ও বেশি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব মাটি কিনে ইটভাটা, বাড়ি ভিটা ভরাট, তিস্তা সেচ ক্যানেলের পাড় ভরাটসহ বিভিন্ন স্থানে পাচার করে দিচ্ছে। প্রশাসনের কোনো ধরনের তৎপরতা না থাকা ও স্থানীয় কৃষি অফিসের অবহেলার কারণে এমনটি ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের কালিকাপুর, শ্মশানবাজার, তেমালেরতল, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কেশবা, চাঁদখানা ইউনিয়নের চাঁদখানা নগরবন গ্রামসহ কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫টি স্পটে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কৃষি জমিতে মাহিন্দ্র ট্রাক্টরের দীর্ঘ সারি । মাটি কাটা চক্রটি কৃষকদের ভয় দেখিয়ে নামমাত্র দামে এসব মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
গত শনিবার দুপুরে ও রবিবার সকালে পুটিমারী ইউনিয়নের তেমালেরতল বাজারের এস সেভেনটি ক্যানেলের ১০০ গজ পূর্ব দিকে গিয়ে দেখা গেছে, পাঁচ থেকে ছয়টি মাহিন্দ্র ট্রাক্টরে করে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পুটিমারী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা সাইদার রহমান, জলিল মিয়া, আতিয়ার, গোপাল চন্দ্ৰসহ অনেকেই বলেন, একটি চক্র কৃষকের কাছ থেকে মাটি কিনছে পার ট্রলি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। আর বিক্রি করছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, কৃষিজমির উপরিভাগের ছয় থেকে ১০ ইঞ্চিতে জৈব পদার্থ বিদ্যমান থাকে। জমির উপরিভাগ কাটার ফলে জমির ফসল উৎপাদনক্ষমতা হ্রাস পায় । তাই কোনোভাবে জমির টপসয়েল বিক্রি করা যাবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমি হক বলেন, জমির টপসয়েল বিক্রির ফলে ক্ষতির দিকগুলো কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের জানানোর ব্যবস্থা করা হবে। সেই সঙ্গে মাটি কাটা চক্রদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

